logo

শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১০:৫২ অপরাহ্ণ

আজ ‘মে দিবস’

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | সময়ঃ ০৫:৪০
  • সংবাদ পাঠকঃ ৬৮৪ জন
photo

অনলাইন ডেক্স : 

 

বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন মহান ‘মে দিবস’ আজ। শোষণ-বঞ্চনার শেকল ছিঁড়ে এই দিনে বারুদের মতো জ্বলে ওঠে ছিল। ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা কাজের দাবিতে জীবন দিয়েছিলেন শ্রমিকেরা। তাদের আত্মদানের মধ্যদিয়ে শ্রমিক শ্রেণীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় পেরিয়ে এসে আজও বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের ঘাম আর শ্রমের মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারে পালিত হচ্ছে এই দিনটি। 

 

বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হচ্ছে সেই সব বীর শ্রমিকদের, যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ চাকা ঘুরছে বিশ্ব অর্থনীতির।

মে দিবসে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত।’ এ প্রতিপাদ্যের অন্তর্নিহিত প্রেরণাকে ধারণ করেই বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস।

 

মহান মে দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। দিবস উপলক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সকাল ১০টায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন। এ সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সভাপতিত্ব করবেন।

এদিকে, মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এছাড়া, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ শীর্ষ জাতীয় ও শ্রমিক নেতারা বক্তব্য রাখবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এ সমাবেশে লক্ষাধিক শ্রমজীবী মানুষের উপস্থিতির প্রত্যাশা করছে দলটি।

মে দিবস উপলক্ষে বিশ্বের ৮০টির বেশি দেশে ১ মে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে।। বাংলাদেশেও সরকারি ছুটির পাশাপাশি নানান কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি ব্যাপক গুরুত্ব ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হবে।

উল্লেখ্য, মহান মে দিবসের ইতিহাসের সূচনা ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। শিল্প বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে শ্রমিকদের দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হলে তারা ৮ ঘণ্টা কর্মদিবসের দাবিতে সংগঠিত হয়ে ওঠে। ওই বছরের ১ মে দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ শুরু হয়, যার কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিকাগো।

আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৪ মে সংঘটিত শিকাগো শহরের হে-মার্কেট স্কয়ারে বোমা বিস্ফোরণ ও পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হন। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন শ্রমিক নেতাকে বিতর্কিত বিচারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলে, তা বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদের জন্ম দেয় এবং শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ১৮৮৯ সালে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে ১ মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে শ্রমিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

শেয়ার করুন