জনতার পত্রিকা :
প্রতারণার মাধ্যমে শিশু সন্তানকে আটকে রেখে বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে গোপনে স্বামীর অনুপস্থিতিতে পাসপোর্ট তৈরিসহ একাধিক অভিযোগে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার বালিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা টিপু সুলতান তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও তার ইতালি প্রবাসী বোন রুজি ফারহানা (রোজী ফরহাদ)-এর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ১০০ ধারায় মোকাম কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২৮৯/২০২৬ নম্বর মামলাটি দায়ের করা হয়।
আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে যদি বেআইনিভাবে বা জোরপূর্বক আটক বা বন্দি করে রাখা হয়, তাহলে তাকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা (Search Warrant) জারি করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ওই ব্যক্তিকে উদ্ধারের নির্দেশ দিতে পারেন।
মামলা দায়েরের আগে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে বাদীপক্ষ কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করলেও কোনো সমাধান না হওয়ায় সন্তানকে ফিরে পাওয়ার জন্য আদালতের শরণাপন্ন হন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, টিপু সুলতান ও সাবিনা ইয়াসমিনের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ৯ এপ্রিল ২০১৫ সালে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান তিতলি (প্রায় ৯ বছর) এবং একটি পুত্র সন্তান তায়েক আহম্মেদ (জন্ম: ৫ নভেম্বর ২০২১) রয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ইতালি প্রবাসী বোন রুজি ফারহানার প্ররোচনায় সাবিনা ইয়াসমিন স্বামীর কাছে পাঁচ কাঠা জমি দাবি করেন। দাবি পূরণ না হওয়ায় তিনি সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করতে থাকেন। পরে গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে তিনি স্বর্ণালংকার ও নগদ ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান এবং টিপু সুলতানকে তালাকের হুমকি দেন। একই সঙ্গে তাদের শিশু পুত্রকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, তার অজান্তেই শিশুটির পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি জানতে পেরে সন্তানকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানালে বিবাদীরা তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, সন্তানকে আর কোনো দিন ফিরে পাবেন না। এরপর থেকে তাকে সন্তানের সঙ্গে দেখা করতেও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া বাঁধপাড়া এলাকায় রুজি ফারহানার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ভাই আলী হোসেন ও ভাবি হীরা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে রুজি ফারহানা ইতালিতে যান এবং বর্তমানে সেখানকার বাসিন্দা। তারা অভিযোগ করেন, বিদেশে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন।
হীরা দাবি করেন, তার মেয়েকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে রুজি ফারহানা তার কাছ থেকেও ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ বিষয়ে টাকা উদ্ধারের দাবিতে তিনি গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে কুষ্টিয়া মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে রুজি ফারহানা বিদেশ থেকে দেশে এসে নিজ বাড়িতে না উঠে কুষ্টিয়া পূর্ব মজমপুরের মফিজ উদ্দিন লেনে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে তার বোন সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে অবস্থান করছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাওনাদারদের এড়াতেই তারা নিজ বাড়িতে না উঠে সেখানে অবস্থান করছেন।
বাদী টিপু সুলতান, তার পরিবার এবং নিজেদের ভুক্তভোগী দাবি করা ব্যক্তিরা অভিযুক্ত সাবিনা ইয়াসমিন ও রুজি ফারহানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, শিশু পাচারের আশঙ্কা থাকায় অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।