জনতার পত্রিকা :
সামাজিক মাধ্যমে তরুণীর সঙ্গে একান্ত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আলোচনায় আসা সাতক্ষীরা-৪ আসনে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ছিলেন। প্রশ্ন উটেছে জামায়াত থেকে বহিষ্কার এমপি গাজী নজরুল এখন কি করবেন ?
এদিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর প্রশ্ন উঠেছেÑ তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা। এ নিয়ে আইনজীবীদের একাধিক মত পাওয়া গেছে। আর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বহিষ্কারের বিষয়টি জামায়াতের পক্ষ লিখিতভাবে জানানোর পর আইনি পর্যালোচনা শেষে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গত সোমবার রাতে ভিডিওটি ছাড়ানোর পর প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। তার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের যে ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে তার কয়েকটি অংশে দেখা যায়, ওই নারীর সঙ্গে নজরুল ইসলাম একটি কক্ষে অবস্থান করছেন। কোনো অংশে আবার তাদের অন্তরঙ্গ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা মুখে পড়েছেন জামায়াতের এই নেতা। এরপর মঙ্গলবার সংসদ সদস্য তার ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্টে ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করে বলেন, গত ১৩ জুলাই, ২০২৬ইং তারিখে আমার প্রথমা ও দ্বিতীয় স্ত্রী, যথাক্রমে মোছা. মাকছুদা বেগম ও মোছা. মরিয়াম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে আমার দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক অফিসে যাই। সেখানে আমরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করি। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুন ঢাকায় পারিবারিকভাবে এবং তার প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তার এই বক্তব্যের পর মরিয়ম আক্তারের বাবা মাসুম বিল্লাহও গণমাধ্যমে একই দাবি করেন। তিনি বলেন, ঢাকার মগবাজারে তার নিজস্ব কার্যালয়ে তিন লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়েটি সম্পন্ন হয় এবং অনুষ্ঠানে গাজী নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীসহ উভয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ১৩ জুলাই কার্যালয়ে অবস্থানকালে গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন সামাজিক মাধ্যমে মরিয়ম আক্তারের জীবনবৃত্তান্ত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, তার জন্ম ২২ মে ২০০৮ এবং তিনি ২০২৬ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে, অবিবাহিত লেখা। ওই জীবনবৃত্তান্তে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজ হাতে জোর সুপারিশ লিখে স্বাক্ষর করেছেন। অথচ তার নিজের দাবি, ১৭ জুন তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। ফলে বিয়ের পরও কেন জীবনবৃত্তান্তে অবিবাহিত লেখা এবং কেন সেটিতে সংসদ সদস্য নিজেই সুপারিশ করলেন, এ প্রশ্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় কাবিননামা প্রকাশের পর। বিয়ে নিবন্ধনকারী কাজী মাওলানা বিএএম বাকী বিল্লাহ জানান, বিয়ে কোথায় বা কীভাবে সম্পন্ন হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। ঘটনার অনেক পরে ফোনে তাকে জানানো হয়, ঢাকায় বিয়ে হয়েছে এবং নিবন্ধনের দায়িত্ব তাকে নিতে হবে। পরে ফোনে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তিনি কাবিননামা প্রস্তুত করেন। কাজীর এই বক্তব্যের পর বিয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন দেখা দেয়।
অন্তরঙ্গ ভিডিও, দ্বিতীয় বিয়ের দাবি, কাবিননামা ও জীবনবৃত্তান্তে অসঙ্গতি নিয়ে দলীয় তদন্তের পর গতকাল এক বৈঠকে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারায় নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে জামায়াতে ইসলাম। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠক শেষে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাবলি এবং সংগঠনের নিজস্ব তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারায় বলা হয়েছে, দলের ঘোষিত নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থি কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে কিংবা কোনো সদস্যের আচরণে দলের নৈতিক প্রভাব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হলে নির্বাহী পরিষদের সিদ্ধান্তে তার সদস্যপদ বাতিল বা বহিষ্কার করা যেতে পারে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ মনে করেছে, গাজী নজরুল ইসলামের কর্মকাণ্ড ওই ধারার আওতায় পড়ে এবং সে কারণেই তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এমপি পদ থাকা নিয়ে প্রশ্ন : এদিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর সংসদ সদস্য পদ থাকবে কিনা, এ প্রশ্ন সামনে এসেছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছেÑ কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-(ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
সুপ্রিমকোর্টর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আর্টিকেল ৭০ বলেন বা আর্টিকেল ৬৬, যেখানে ডিসকোয়ালিফিকেশনের কথা বলা আছে, দুই জায়গায় কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে যেটা আসে সেটা হলো যখন পার্টি একজন লোককে নোমিনেট (মনোনীত) করে, জনগণ কিন্তু সেই পার্টির নোমিনেশনের ভিত্তিতেই তাকে ভোটটা দেয়। পার্টি যখন তাকে বহিষ্কার করে তখন স্বাভাবিকভাবেই কিন্তু ওই জনগণের রায় বা ম্যান্ডেটটা কিন্তু অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, কারণ তারা তো পার্টির পক্ষে দিয়েছিল তাকে। পার্টি যখন তাকে যেকোনো অসৎ কাজের জন্য বহিষ্কার করে, তখন কিন্তু সেখানে ওই নৈতিকতার প্রশ্নটা চলে আসে যে তার এটা থাকবে কিনা।
তিনি আরও বলেন, পদত্যাগ হলো স্বেচ্ছার ব্যাপার, আর এখানে বহিষ্কারটা হলো পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ওই জায়গাটায় এখনও যে একটু তর্ক আছে, লিগ্যাল বিতর্ক আছে। তবে একটা মামলায় কোর্ট বলে দিয়েছিল স্পিকারকে যে, ইউ সেন্ড দ্য ম্যাটার টু ইলেকশন কমিশন, দে উইল ডিসাইড (আপনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠান, তারা সিদ্ধান্ত নেবে)। এক্ষেত্রে (গাজী নজরুল ইসলাম) আমার ব্যক্তিগত মত হলো যে, যেহেতু জনগণের ভোটটা হয়েছে পার্টির নোমিনেশনে, পার্টি যদি তাকে বহিষ্কার করে, সেখানে জনগণের মতটা তো আর থাকার কথা না। অতএব সেক্ষেত্রে তার সিটটা ভ্যাকেন্ট (শূন্য) হওয়া প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এ বিষয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে ‘পদত্যাগ’। তিনি হয়েছেন ‘বহিষ্কার’। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ ‘নৈতিক স্খলন’। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে ‘না’।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, দল থেকে বহিষ্কার হলেই গাজী নজরুল ইসলামের এমপি পদ যাবে না। যদি তিনি অপরাধী হয়ে থাকেন, তাহলে আদালত সেটি দেখবে। এরপর ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় মনোনয়নে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মূল পরিচয় ও আইনগত ভিত্তি তৈরি হয় দলগত কাঠামোর ওপর ভর করে। তাই দল যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার করে এবং তার মনোনয়ন প্রত্যাহার বা বাতিল করে, তবে তার আসন শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়া। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় বহিষ্কার সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র বা চিঠি এখনও নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেনি। তিনি জানান, অফিশিয়াল কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আইন, বিধিমালা ও সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা, গ্রেপ্তার ১ : অন্যদিকে, মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে মামলাটি করেন সংসদ সদস্যের সাবেক গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমান। তিনি মামলার এজহারে অভিযোগ করেছেন, তার ভাগ্নির সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করা এবং ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে তাকে মারধর করা হয়।
মামলার আসামিরা হলেন গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই ও পুলিশের চাকরিচ্যুত একজন এসআই।
ওবায়দুর রহমানের দায়ের করা মামলাটি ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের এসআই রাকিবুল হুদা আমিনুর রহমানকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিপক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি। এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার বাদি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় ঘটনার বিষয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার এজাহারে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এর আগে ওবায়দুর রহমান তাকে মারধরের ঘটনায় গত ২০ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের পরই পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত শুরু করে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিক্ষোভ, এমপির পদত্যাগ দাবি : নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা জানান, সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও ভাইরালকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচি পালন করেছে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’। গতকাল দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্টপ মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের তীব্র সমালোচনা করেন এবং একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন। পরে বিক্ষোভকারীরা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন।