logo

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০৬:২২ অপরাহ্ণ

আদালতে ধরা পড়া সেই নারী রিমান্ড শেষে কারাগারে

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | সময়ঃ ০৫:৫৩
  • সংবাদ পাঠকঃ ১১৭৮ জন
photo

ঢাকা অফিস :  : 

 

ঢাকার আদালতে ২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনারের মামলায় এক নারী আসামির হয়ে প্রক্সি দিয়ে ধরা পড়া মনোয়ারা বেগমকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।দুই দিনের রিমান্ড শেষে আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন। 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন কারাগারে আটক রাখার এই আবেদন করেন। গত ২৬ জুন আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

প্রক্সির ঘটনায় গ্রেপ্তার মনোয়ারা বেগম ও মামলার মূল আসামি নাসরিন সিকদার ও আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনে বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু এই মামলা করেন।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই ওয়ালিদ হোসেন তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪র্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানা লিপির আদালতে এই প্রক্সিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ধরা পড়া মনোয়ারা বেগমের দাবি, আইনজীবী তাকে নাসরিন সাজিয়ে আদালতে নিয়ে আসেন।

২৯ লাখ টাকা চেক ডিজঅনার হওয়ায় গত বছরের ২৩ মার্চ সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ তুলি আদালতে এই মামলা করেন। পরবর্তীতে আসামি জামিন নেন। তবে গত ১৬ জুন মামলার আসামি আদালতে না আসায় জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত । 

গত বৃহস্পতিবার নাসরিনের হয়ে মনোয়ারাকে আদালতে হাজির করে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন।

শুনানিকালে বিচারক তানিয়া সুলতানা লিপি আসামির মুখের মাক্স খুলতে বলেন। কয়েক দফা বলার পরও মাক্স খোলেন না খোলায় এক নারী পুলিশ সদস্য মুখ থেকে মাক্স খুলে দেন। তখন আসামির বেশভূষা দেখে সন্দেহ হয় বিচারকের। স্বামীর নাম, বাবার নাম জানতে চান। স্বামীর নামের জায়গায় বাবার নাম, আর বাবার নামের জায়গায় বলেন স্বামীর নাম। বিচারক তার কাছে জানতে চান, কত টাকার মামলা।

আসামি বলেন, ‘৩০ লাখ টাকার। বিচারক তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র চান। তিনি বলেন, আইনজীবীর চেম্বারে রেখে আসছি। গিয়ে নিয়ে আসি। তখন বিচারক তাকে যেতে না দিয়ে সিগনেচার করতে বলেন । তখন সে সিগনেচার না দিয়ে টিপসই দেন। এরই মাঝে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে যান আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। তখন বিচারক উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের আসামির কাঠগড়ায় আটকে রাখতে বলেন।’

সত্য বললে ন্যায়বিচার পাবেন মর্মে তাকে আশ্বস্ত করলে মনোয়ারা জানান, তার বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও এলাকায়। সূত্রাপুরের কলতাবাজারে পরিবারের সাথে থাকেন। বাসা বাড়িতে কাজ করার পাশাপাশি আইনজীবীদের চেম্বার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। আইনজীবী তাকে নিয়ে আসছে। নিজের ছবি দিয়ে নাসরিন সিকদার নামে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছেন।

পরে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু এই মামলা করেন।

শেয়ার করুন