logo

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০৭:০৯ অপরাহ্ণ

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৩২

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | সময়ঃ ১২:৫১
  • সংবাদ পাঠকঃ ১১৭৮ জন
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত হয়েছেন। নতুন এই সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। বার্তাসংস্থা আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে পরবর্তী দফার আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

তবে শুক্রবার ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় আলোচনা জটিল হয়ে উঠেছে। তেহরান মনে করছে, লেবাননে কার্যকর যুদ্ধবিরতি বজায় থাকাই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্যতম শর্ত এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ধারণ করতে পারে।

 

লেবাননের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার দক্ষিণাঞ্চলের নাবাতিয়েহ জেলায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে লেবাননের জাতীয় বার্তাসংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, কফর রেমান গ্রামে ইসরায়েলি হামলায় একজন লেবানিজ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

টাইর জেলাতেও একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। বারিশ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য- বাবা, মা ও তাদের দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। পশ্চিম বেকা অঞ্চলের সোহমর এলাকায় একটি বাড়িতে হামলায় আরও চারজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন।

সাইদা জেলার কানারিত এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র।

লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি হামলায় ৮৩ জন নিহত এবং ১৪১ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের বেশিরভাগই দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দা।

লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হেইডি পেট জানান, শনিবার মধ্যরাতের পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে ১০০টির বেশি ইসরায়েলি বিমান হামলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিন। নিহত ও আহতদের মধ্যে বহু বেসামরিক মানুষ রয়েছেন।’

তিনি আরও জানান, লেবানিজ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও হামলার শিকার হয়েছেন। একজন সেনাকে মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় লক্ষ্য করে হত্যা করা হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া নতুন সংঘাতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৫৭ জন নিহত এবং ১২ হাজার ১২১ জন আহত হয়েছেন।

বৈরুত থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক রব ম্যাকব্রাইড বলেন, ‘এটি যুদ্ধবিরতির ভঙ্গুর প্রকৃতিকে স্পষ্ট করছে। একই সঙ্গে পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াটি লেবাননের পরিস্থিতির ওপর কতটা নির্ভরশীল, তাও প্রকাশ পাচ্ছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের প্রথম ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, লেবাননের যুদ্ধ বন্ধ করা বৃহত্তর যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

লেবানিজ সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, লেবাননে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতেই ইসরায়েল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

লেবাননের সংসদ সদস্য নাজাত আউন সালিবা বলেন, ‘লেবাননের মানুষ ক্লান্ত। তারা হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ উভয়েই ইরান যুদ্ধে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে লেবাননের ভূখণ্ড ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, নাবাতিয়েহ অঞ্চলের কাছে অগ্রসর হওয়া ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহ রাতভর দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে ৫০টির বেশি রকেট ও প্রজেক্টাইল নিক্ষেপ করেছে, যা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় তাদের আরও একজন সেনা নিহত হয়েছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার পর থেকে নিহত ইসরায়েলি সেনার সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবিও জানিয়ে আসছে বৈরুত।

শেয়ার করুন