মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দ্দা বস্তুত এ গুলি নেশা জাতীয় দ্রব্য। নেশাদার দ্রব্য মাত্রই ইসলামে হারাম। হারাম বস্তু খাওয়া যেমন হারাম, তা নিয়ে ব্যবসা করাও তেমন হারাম। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন সম্প্রদায়ের উপর কোন কিছু খাওয়া হারাম করেন, তখন তিনি তার ব্যবসাও হারাম করেন (আবুদাঊদ হা/৩৪৮৮)। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ঘোষণা করেন ও নিষিদ্ধ করেন হারাম বস্তু সমূহ’ (আ‘রাফ ১৫৭)।
আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) একদা মসজিদে গিয়ে বললেন, মদের ব্যবসা করা হারাম (মুসলিম হা/৪০২৩ ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়)। যে সমস্ত বস্তু পান করা হারাম, সেগুলোর ব্যবসা করাও হারাম (মুসলিম হা/৪০২০)।
জামাতিদের কাছে এখন আমার প্রশ্ন :
আপনারা তো ইসলামের ধারক-বাহক দল । ইসলাম কায়েম করার জন্য আপনারা তো জীবন বাজি রাখেন । তা হলে বিদ্যুতের দাম, তেলের দাম, গ্যাসের দামসহ অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশের জনগণ অসন্তুষ্ট এ সব বাদ দিয়ে আপনারা কেন মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দ্দাসহ নেশা জাতীয় হারাম নিকৃষ্ট দ্রব্যের দাম বিদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামলেন ? আপনারা কি এ সব জঘন্য পণ্যকে জান্নাতি হালাল পণ্য মনে করেন ? আপনারা তো জানেন নেশা দ্রব্য সেবন করার কারণে দেশের যুব সমাজসহ লক্ষ লক্ষ মানুুষ আর্থিক ও শারিরীক ভাবে ধ্বংসের পথে। নেশার টাকা জোগাড় করতে যেয়ে যুবসমাজ জড়িয়ে পড়ছে অসামিজিক কার্যকলাপে । বাড়ছে চুরি, ডাকাতি.ছিনতাই,খুন খারাবি। নেশার টাকা না দেওয়ায় মাদকাসক্ত ছেলে-মেয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে নির্মম ভাবে হত্যা করেছে । পুলিশ অফিসারের শিক্ষিত মেয়ে ঐশীর কথা কি আপনাদের মনে নেই । নেশার টাকা জোগাড় করতে যেয়ে অনেক নারী (স্কুল,কেলেজ, বিশ্বব্যিালয়ের ছাত্রী ) দেহ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে । আপনারা কি দেহ ব্যবসাকে জায়েজ মনে করেন ? নেশাজাতীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি নয়, সরকার কেন মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দ্দাসহ নেশা জাতীয় দ্রব্য উৎপান ও বিপণন নিষিদ্ধ করলো না এ নিয়ে যদি আন্দোলনে নামতেন তা হলে দেশের মানুষ বুঝতো সত্যিই আপনারা দেশপ্রেমিক । আপনাদের পক্ষেই ইসলাম কায়েম করা সম্ভব। কারণ আমার ও আপনার সন্তানও তো নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত হতে পারে? কই গাইবান্ধার রাম মূর্তি নিয়ে তো আপনারা আন্দোলন করছেন না । মুর্তি কি ইসলামে জায়েজ ?
যারা ইসলামকে বিশ্বাস করে না কিংবা ইসলামের পক্ষে না তারাও তো নেশাজাতীয় দ্রব্য উৎপাদন ও বিপনণের বিপক্ষে । বাজেটের আগে তামাক বিরোধী জোট সরকারকে নেশা জাতীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির জন্য স্মারক লিপি দিয়েছে । যাতে সহজে নেশা জাতীয় দ্রব্য কেও কিনতে না পারে। আপনারা তো জানেন এ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ৬০০ জনের অধিক ব্যক্তি খুন হয়েছে, জান্নাতি হুজুরদের দ্বারা শতাধিক কোরানের পাখি বলাৎকারের শিকার হয়েছে ( নাউযুবিল্লাহ) ,দুই শতাধিক নারী ধর্ষনের শিকার হয়েছে কই এ সব নিয়ে তো আপনারা আন্দোলনে নামলেন না ? কারন কি ?, কারন তো অবশ্যই আছে ।
দেশের মানুষ জানে টাকা ও স্বার্থ ছাড়া আপনারা এক কদমও হাটেন না। লোকে বলছে বিড়ি ,সিগারেট কাম্পানী গুলো মালপানি ছড়াচ্ছে আর আপনারা আন্দোলন করছেন এ কথা কিন্তু দেশের জনগণ বুঝে ফেলেছে। আল্লাহর মনোনীত ধর্ম ইসলামকে আর কত নীচে নামাবেন ? ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আপনারা যে কত নীচে নামতে পারেন তা দেখেছে দেশবাসী। আপনারা ইসলাম কায়েম করবেন বলেই কিন্তু ধর্মপ্রাণ মসুলমানরা এতদিন আপনাদের সমর্থন দিয়ে আসছিল । আপনারা বলতেন“ সৎ লোকের শাসন চাই- কোরানের আইন কায়েম চাই “ । কি সুন্দর স্লোগান । কিন্তু দেশবাসী কি দেখলো ? ভোটের আগে আপনারা খুলে বসলেন হিন্দু শাখা । দাঁড়ি পাল্লায় মনোনয়ন দিলেন হিন্দু র্প্রার্থী । গেলেন মন্দিরে মন্দিরে , খেলেন হারাম প্রসাদ । স্লোগান দিলেন “ হরে কৃষ্ঞ হরি বোল -দাঁড়ি পাল্লা টেনে তোল “ ? হায়রে ইসলাম! ইসলামকে নিয়ে রসিকতা করার কারণে আল্লাহ বরদাশ করেননি বলেই তিনি আপনাদের ক্ষমতায় বাসাননি। তিনি আজ আপনাদের জাতীয় সংসদে বিরোধী দলে বসিয়ে প্রতিনিয়িত শুনাচ্ছে রাজাকার,আল-বদর বলে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ের ঐতিহাসিক গালি । আমার মনে হয় এটা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনাদের জন্য ঐশ্বরিক শাস্তি ।
আপনারা জানেন বাংলাদেশে প্রায় ৩০-থেকে ৩৫ ভাগ মানুষ ধুমপায়ী ও নেশা গ্রস্থ। মদ,গাজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্যের সাথে আরো ৫% মানুষ জড়িত। বাজেটে নেশা জাতীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধির কারণে নেশাখোররা সরকারের উপর নাখোশ হবে সেটায় স্বাভাবিক ।
এ সময় মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দ্দার দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে যদি আপনারা আন্দোলন করেন তা হলে দেশে নেশার সাথে জড়িত মানুষ গুলো দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দেবে । তা হলে আগামী নির্বাচনে জামাত ক্ষমতায় যেতে পারবে। বলুনতো ক্ষমতার মালিক কে ? আল্লাহ কি আপনাদের চেয়ে কম বোঝে ? (নাউযুবিল্লাহ) ।
কেউ যদি এখন জামাতের আমিরকে প্রশ্ন করে যে ইসলাম তো নেশাদার দ্রব্য পান করা ও ব্যবসা করা হামার করেছে তা হলে আপনারা কেন মদ, গাজা, বিড়ি, সিগারেট, গুল, তামাক, জর্দ্দার দাম বৃদ্ধির কারণে আন্দোলন করছেন ? তখন হয়তো আমির সাহেব বলবেন “ রাখ তোর ইসলাম“ আগে ভোট বাড়িয়ে নিই তার পরে দেখা যাবে” । ( ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে এমনটিই বলেছিলেন তিনি ) ।