জনতার পত্রিকা :
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেন। এতো বছর নিজের নাম, চেহারা সবকিছু বদলে ছদ্মনামে চলতেন তিনি। কিন্তু নিজের জন্মগত মুখের আচিল পরিবর্তন করতে পারেননি। তার এই আচিলের চিহ্ন যেন কাল হয়েছে। এর আগে গোয়েন্দারা তার মেয়ের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন। তারা জানতে পারেন তার মেয়ে একটি বেসরকারি টেলিকম প্রতিষ্ঠানে (এয়ারটেল) চাকরি করেন। কয়েক মাস ধরে তার মেয়ের কর্মস্থল এবং গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন গোয়েন্দারা। এক পর্যায়ে তার বাড়ির ঠিকানা চিহ্নিত করেন। পরবর্তীতে ছদ্মবেশে সার্বিক পরিবেশ ও মোজাফফরের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। মোজাফফরের নাকের ঠিক নিচে একটি আঁচিল বা তিল সদৃশ কালো দাগ ছিল এই একটি ক্লু ধরে তারা এগোতে থাকে। বুধবার গভীর রাতে গোয়েন্দা দল ছদ্মবেশে তার বাসার দরজায় কড়া নাড়ে। দরজা খেলার পর গোয়েন্দারা তার মেয়ের নাম ধরে জানতে চান তিনি বাসায় আছেন কিনা। এ সময় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিজেদের ‘এয়ারটেল অফিস’ থেকে আসা কর্মী হিসাবে পরিচয় দেন। তবে সন্দেহ হওয়ায় বাসার ভেতর থেকে একজন বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি দরজা খুলে এগিয়ে এসে জানতে চান, ‘এত রাতে অফিসের কাজ কেন? আমাকে বলুন কী বিষয়। গোয়েন্দারা তখন কৌশলগতভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ লোকটির চেহারা পর্যবেক্ষণ করেন। তারা দেখতে পান, তার নাকের নিচে থাকা সেই পরিচিত তিল বা আঁচিলটি। এ সময় কর্মকর্তারা বলেন, ‘মুরব্বি, আমরা তো আপনাকে চিনি না, আপনি কে? আমরা যার সঙ্গে দেখা করতে এসেছি, তার সঙ্গে দেখা করতে দিন।’ সরল বিশ্বাসে এবং কিছুটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সেই ব্যক্তি উত্তর দেন ‘আমি মোজাফফর। মেয়ের বাবা’।মোজাফফরের মুখ থেকে একথা শোনার পর হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।