নিজস্ব প্রতিবেদক,কুষ্টিয়া :
স্কুলছাত্রীকে ধর্ষন করা মামলায় কুষ্টিয়ায় আদালত এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন । একইসঙ্গে তাকে অর্থদন্ড করা হয়।
আজ বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক এএইচ এম শফিকুল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।
দন্ডপ্রাপ্ত জহির রায়হান সদর উপজেলার হররা ডাক্তার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর নবীর ছেলে। মামলা এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার পথে ধর্ষক রায়হান নানাভাবে কুপ্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ওই ছাত্রী পরিবারকে জানালে পরিবারের উদ্যোগে ওই যুবকের পরিবারের লোকজন এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ শালিশে ওই যুবককে গালমন্দ করে এবং এ ঘটনার জন্য শাসন করে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে উঠেন। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাতে ওই মেয়ের পিতা-মাতা পাশের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলে যান। ওই ছাত্রীকে বাসায় একা পেয়ে জহির রায়হান ওই ছাত্রীর কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রায়হান। কিন্তু ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে যুবক জহির রায়হানের নাম উল্লেখসহ এজাহার দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম যুবক জহির রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ‘কুষ্টিয়া সদর থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে আসামি জহির রায়হানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড সহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন আদালত। আসামি রায়হানকে ২০১৮ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। পরবর্তীতে আসামি রায়হান জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।