শামসুল আলম স্বপন,কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার চৌড়হাসের কাঁচা বাজার এলাকার নাজমুল স্টোরের মালিক জামাত কর্মী নাজমুল ইসলাম প্রতি সপ্তাহে লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ পলিথিন ব্যাগ ঈশ্বরদী থেকে আমদানি করে বিক্রি করছে দোকানে দোকানে । তাতে কুষ্টিয়া পৌরসভার ড্রেন ও জলাধার ভরাট হয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে পরিবেশ ।
নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কুষ্টিয়া এখন পলিথিনের শহর। শহর গ্রামে, হাটে-বাজারে, ছোট দোকান থেকে শুরু করে বড় দোকানের পণ্য কিনলেই মিলছে পলিথিনের ব্যাগ। এ কারণে পরিবেশ, জনজীবন, পৌরসভার ড্রেনসহ ভরাট হয়ে যাচ্ছে জলাধার, ভূমি, নদী, খাল বিল । প্রকৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ এই পলিথিন নিষিদ্ধ হলেও এর উৎপাদন, বিপণন এবং বিক্রি এখন অনেকটা ওপেন সিক্রেট ।
প্রশাসনের নাকের ডগায় পলিথিন এবং নিম্নমানের প্লাস্টিক পণ্য দেদারসে বিক্রি, ব্যবহার এবং ফেলে দেওয়া হলেও কারোরই যেন কোন মাথা ব্যথা নেই। পলিথিনের বিকল্প অপচনশীল পণ্য বাজারে থাকলেও সেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না । এসব বিকল্প পণ্য ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও নেই। যে কারণে সহজলভ্য পলিথিনের যথেচ্ছা এবং নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ব্যবহার হচ্ছে । সামান্য বৃষ্টিতে কুষ্টিয়া শহর তলিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ এই পলিথিন এবং প্লাস্টিক বোতল। ভেঙে পড়ছে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা। অথচ প্রশাসন নিরব ।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫-এর বিধান অনুসারে দেশে ২০০২ সাল থেকে পলিথিন ব্যাগ উৎপাদন, ব্যবহার, বিপণন এবং পরিবহণ নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী একটা সময়ে পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে আসে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের নতুন উদ্যমে পলিথিনকে ফিরিয়ে আনা এবং প্রশাসনের সঠিক তদারকির অভাবে এখন পলিথিন এবং প্লাস্টিক পণ্য সবখানে। আইনের কার্যকর কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় কুষ্টিয়া পৌর বাজার, বড় বাজারসহ উপজেলার হাটবাজারগুলোতে শাকসবজি, মাছ-মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ে দেদারসে ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন ।
কুষ্টিয়া পৌরবাজারে সবজি বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন (ছদ্মনাম) জানান, কুষ্টিয়ার চৌড়হাসের কাঁচা বাজার এলাকার নাজমুল স্টোরের মালিক জামাত কর্মী নাজমুল ইসলাম ও তার লোকেরা এই পলিথিন সরবরাহ করে থাকে । আমরা তার কাছ থেকে ১কেজি পলিথিন ২৮০টাকায় কিনে থাকি।
নিষিদ্ধ পলিথিন আমদানী ও বিক্রির ব্যাপারে নাজমুল স্টোরের মালিক নাজমুল ইসলামকে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিষিদ্ধ পলিথিন আমদানী ও বিক্রি করার কথা অকপটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন আমি একা না কুমারগাড়ার সুমন, শাহীন, বড়বাজারের ব্যবসায়ী রহমান, বড় ষ্টেশন রোডের শাহীন, মিরপুরের শামীমসহ আরো অনেকে পলিথিনের ব্যবসা করে। প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয় কিনা জানতে চাইলে নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ ব্যবসা করতে হয়। তিনি বলেন আমি প্রতিমাসে, পরিবেশ অধিদপ্তর, কুষ্টিয়া মডেল থানা, ভেড়ামারা থানা ও মিরপুর থানায় টাকা দিয়ে থাকি । ভেড়ামারা থানা ও মিরপুর থানায় টাকা দেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন যেহেতু আমি ঈশ^রদী থেকে পলিথিন আনি পথে যাতে ওই দুই থানা পলিথিন আটক না করে সে জন্য মাসোহারা দিতে হয়।
কুষ্টিয়ার পরিবেশ কর্মী মোশারফ হোসেন জানান, নিষিদ্ধ পলিথিনে কুষ্টিয়া সয়লাব। প্রশাসন কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় দেদারসে বিক্রি হচ্ছে অবৈধ পলিথিন । তিনি বলেন,কুষ্টিয়ার পরিবেশ রক্ষা করতে হলে শুধু বাজারে অভিযান নয়, বরং অবৈধ কারখানাগুলোর উৎপাদন বন্ধ করা এবং পাটের ও কাপড়ের ব্যাগের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি ।
কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, নিষিদ্ধ পলিথিন আমদানী ও বিক্রি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে । আমরা জনসাধারণকে পলিথিন ব্যবহার না করার পরামর্শ দিচ্ছি । খবর পেলেই আমরা পলিথিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর আলোকে ২০০২ সালে বাংলাদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ করা হয়।