logo

বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ

রত্নগর্ভা মায়ের কু-সন্তান যারা !

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | সময়ঃ ১২:৪৯
  • সংবাদ পাঠকঃ ১০৬৪ জন
photo

জনতার পত্রিকা : 
 
 নূরজাহান বেগমের বড় ছেলের নাম ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, তিনি সরকারের যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন বর্তমানে তার কর্মস্থল মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক।
 
সামি তাদের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে ড. একে এম আনিসুর রহমান বাংলাদেশ সরকারের যুগ্মসচিব পদে কর্মরত রয়েছেন, বর্তমানে তার কর্মস্থল মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ। তিনি ১৯৮৬ সালে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় হতে এসএসসি ও ১৯৮৮ সালে ঢাকা কলেজ হতে এইচএসসি পাস করেন (প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ), পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক করেন (প্রথম বিভাগ, ১৯৯৫ সাল)।
সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর পরিকল্পনা কমিশন, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি লেখেন, এই কর্মকর্তার মা সম্পূর্ণ অবহেলিতভাবে মারা গেলেও, তিনি নিজে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্পের উপ পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। যুগ্মসচিব ড.একে এম আনিসুর রহমান, দক্ষিণ কোরিয়ার কেডিআই স্কুল অফ পাবলিক পলিসি এন্ড ম্যানেজম্যান্ট হতে এমপিপি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
নূরজাহান বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ড. এ কে এম আশিকুর রহমান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের একজন অধ্যাপক ও বেসরকারি প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টি।
 
সামি আরও উল্লেখ করেন, তিনি ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের ৩২ ব্যাচের একজন প্রাক্তন ক্যাডেট, এসএসসি (১৯৮৯), এইচএসসি (১৯৯১) তে সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ও ২০০১ সালে এমএসসি সম্পন্ন করেন। তার রয়েছে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা থেকে কম্পিউটিং সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি।
 
নূরজাহান বেগমের কন্যা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা, যিনি মিরপুরের ইম্পেরিয়াল স্কুলের শিক্ষিকা, আরেক ছেলে কে এম আতিকুর রহমান বর্তমানে কানাডা প্রবাসী, তার বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে বলে পোস্টে তিনি জানান।
 
 
৩রা জুন জনতার পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ : 
 

এক ছেলে সচিব, এক ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক, আরেকজন কানাডা প্রবাসী— তবুও ৮ দিন ধরে নিঃ'সঙ্গ পড়ে ছিল মায়ের প্রা'ণহীন দে'হ!


মায়ের নাম নুরজাহান বেগম। সন্তানের সুখ-স্বপ্ন পূরণ করতে জীবনের সেরা সময়, শ্রম, ত্যাগ আর ভালোবাসা বিলিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সন্তানদের একজন আজ সচিব, একজন বুয়েটের অধ্যাপক, আরেকজন কানাডা প্রবাসী। সমাজের চোখে তারা সফল, প্রতিষ্ঠিত এবং সম্মানিত।
কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মায়ের ভাগ্যে জুটেছে এক গভীর নিঃ'সঙ্গতা।
ঢাকার মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের স্টোররুমের পাশের পরিত্য'ক্ত কক্ষে প্রায় ৮ দিন ধরে পড়ে ছিল তাঁর প্রা'ণহী'ন দে'হ। কেউ খোঁজ নেয়নি, কেউ দরজায় কড়া নাড়েনি, কেউ জানতে চায়নি— "মা, তুমি কেমন আছো?"
মৃত্যুর পরও যেন তিনি অপেক্ষা করেছেন প্রিয় সন্তানদের জন্য। হয়তো শেষবারের মতো তাদের মুখ দেখার আশায়...
এই ঘটনা শুধু একজন মায়ের মৃ'ত্যু'র গল্প নয়; এটি আমাদের সমাজের এক নি'র্ম'ম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। যে মা সন্তানের জন্য নির্ঘুম রাত কাটান, নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিস'র্জ'ন দেন, সেই মা যদি জীবনের শেষ সময়ে এমন পরিণতির শি'কা'র হন— এর চেয়ে হৃ'দ'য়বিদারক আর কী হতে পারে?
আজ আমরা সবাই ব্যস্ত। কাজ, ক্যারিয়ার, সংসার আর হাজারো অজুহাতে মা-বাবার জন্য সময় বের করতে পারি না। কিন্তু মনে রাখবেন—
একদিন এমন সময় আসবে, যখন হাজার চাইলেও "মা" বলে ডাকার সুযোগ আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
তাই আজই মা-বাবার খোঁজ নিন। একটি ফোন করুন, কয়েক মিনিট কথা বলুন, তাদের পাশে বসুন। কারণ পৃথিবীর সবচেয়ে নিঃ'স্ব মানুষ সে নয় যার টাকা নেই, বরং সে— যার মা-বাবা আছে, কিন্তু তাদের জন্য সময় নেই।
মা-বাবা কোনো বোঝা নন, তাঁরা আমাদের অস্তিত্বের মূল ভিত্তি।

-

 



 

শেয়ার করুন