logo

শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১০:৫১ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়া শহরের রেললাইন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের পরিকল্পনা

প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | সময়ঃ ০৪:৪৬
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৩৬৮ জন
photo

জনতার পত্রিকা : 
 
 
কুষ্টিয়া শহরের রেললাইন বিতর্কঃ সমাধানের চেষ্টায় রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া সদর  উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাকির হোসেন সরকার। তিনি নিম্নে রূপরেখা প্রদান করেন,,,
 
কুষ্টিয়া শহরের ঠিক মাঝখান দিয়ে রেলপথ যাওয়ার কারণে ইদানিং শহরে বেশ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া মূল শহরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকার কারণে কুষ্টিয়া এক রাস্তার (শুধু এন এস রোড) শহরে পরিনত হয়েছে। কুষ্টিয়াকে যানজট মুক্ত সুপরিসর শহরে পরিণত করতে শহরের মাঝখান থেকে রেললাইন সরিয়ে পূর্বের স্থানে তথা জগতি-চৌড়হাস-মোল্লাতেঘরিয়া এলাইনমেন্টে প্রতিস্থাপনের দাবী কুষ্টিয়াবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয়।
আমি নিজেও আমার নির্বাচনী ইস্তেহারে এই দাবীর প্রতি একাত্মতা ঘোষনা করেছিলাম। কিন্তু কিছুদিন আগে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জগতি-চৌড়হাস-মোল্লাতেঘরিয়া এলাইনমেন্টে আদৌ কোন রেলপথ ছিল না। জগতি থেকে মোল্লাতেঘরিয়া পর্যন্ত ২ মাইল লম্বা একটা রেলট্রাক ছিল, যেটা মুলত রেলের শান্টিং এর কাজে ব্যবহৃত হত। এর অর্থ মোল্লতেঘরিয়া থেকে লাহিনী হয়ে দবিরমোল্লা গেট পর্যন্ত রেলের কোন জায়গা নেই।
আমরা যদি শহরের মাঝখান থেকে রেলপথ সরাতে চাই তাহলে মুল চ্যালেজ্ঞ হল;
1. মোল্লাতেঘরিয়া থেকে দবিরমোল্লা গেট পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ (বর্তমান সময়ে এটা একটা সময় সাপেক্ষ এবং জটিল কাজ)
2. মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে দিয়ে রেললাইন টানলে রোগীদের জন্য বড় একটা বিড়ম্বনার কারণ সৃষ্টি হবে।
উপরোক্ত জনগুরুত্বপূর্ণ কারণ বিবেচনায় যুক্তিযুক্ত বিকল্প চিন্তা করা যেতে পারে। সেটা হল;
1. মজমপুর এবং বড়বাজারে দুটি সড়ক ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ করা।
2. জগতি এবং বড় ষ্টেশনকে যথাযথ সংস্কার পূর্বক রি-একটিভেট করে কোর্ট ষ্টেশনকে বন্ধ ঘোষনা করা।
3. মাসুদ রুমী সেতু, প্রস্তবিত ঘোড়ারঘাট সেতু এবং হরিপুর সেতু সংযুক্ত করে গড়াই নদীর দুই পাড় দিয়ে প্রশস্থ সড়ক নির্মাণ করা।
এই বিকল্প প্রস্তাবে কম খরচে স্বল্প সময়ে (জমি অধিগ্রহণের ঝামেলা ব্যতি রেখে) শহরের যানজট কমে কুষ্টিয়া একটি সুপরিসর নদী কেন্দ্রিক শহরে পরিণত হবে বলে আশা করা যায়।
তাছাড়া জগতি এবং বড় ষ্টেশনে রেলের অনেক জায়গা আছে যেটা ভবিষ্যতে রেলের বড় অবকাঠামো এবং বড় ষ্টেশনের নীচে গড়াই নদীর পাড়ে একটা নদী বন্দর তৈরীতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। যশোরের নওয়াপাড়া নদী বন্দর যেভাবে মংলা বন্দরের সাথে সংযুক্ত হয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের  ব্যাপক প্রসার ঘটিয়েছে, ঠিক তেমনি কুষ্টিয়ার বড় ষ্টেশনের নীচে নদী বন্দর স্থাপন করা গেলে সেটা গড়াই নদী মাধ্যমে মংলা বন্দরের সাথে সংযুক্ত হবে এবং বড় ষ্টেশনের মাধ্যমে রেলপথ ও সড়ক পথের সাথে সংযুক্ত হয়ে কুষ্টিয়া অঞ্চলের ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটাবে বলে আশা করা যায়।
উপরোক্ত বিষয়ে কুষ্টিয়াবাসীর যুক্তিযুক্ত মতামত আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা গ্রহণ করতে সহায়ক হবে। 

শেয়ার করুন