মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী মহাযুদ্ধ এড়াতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা এখন একটি ৪৫ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সূত্রমতে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক প্রতিবেদনে এসব কথা জানিয়েছে। এতে আর বলা হয়েছে, এরিমধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তেহরান এবং ওয়াশিংটনের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এরিমধ্যে প্রস্তাবটি পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। প্রস্তাব নিয়ে এখন্ মুখে খুলেননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেয়া ১০ দিনের সময়সীমা আরও ২০ ঘণ্টা বাড়িয়ে স্থানয়ী সময় মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে বর্তমানে অত্যন্ত গভীর ও নিবিড় আলোচনা চলছে।
তবে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তিনি ইরানের ওপর সর্বাত্মক হামলা চালাবেন। ট্রাম্পের ভাষায়, চুক্তি না হলে আমি ওখানে সব কিছু উড়িয়ে দেব। উল্লেখ্য, ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে গণ্য হতে পারে। ট্রাম্পের হুমকির কঠিন জবাবও দিয়েছে ইরান।
বর্তমানে পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। সরাসরি আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমেও বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির দুটি ধাপ রয়েছে:

প্রথম ধাপে একটি ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে, যা আলোচনার প্রয়োজনে আরও বাড়ানো যেতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হবে।
আলোচনার প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়া এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ। ইরান এই দুটি বিষয়কে তাদের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে এবং মাত্র ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে এগুলো পুরোপুরি ছেড়ে দিতে রাজি নয়। মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা করছেন যাতে প্রথম ধাপে ইরান অন্তত আংশিক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
অন্যদিকে, ইরান একটি স্থায়ী নিশ্চয়তা চাইছে। তারা গাজা বা লেবাননের মতো এমন কোনো পরিস্থিতিতে পড়তে চায় না যেখানে কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যে কোনো সময় পুনরায় হামলা চালাতে পারে।
মধ্যস্থতাকারীরা ইরানকে সতর্ক করেছেন, আলোচনার আর সময় নেই। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে, তবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও পানি শোধনাগারগুলোতে ধ্বংসাত্মক পাল্টা হামলা চালাবে। এমন পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এত সব আলোচনার মাঝেও ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জনসমক্ষে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। তারা জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর কখনোই আগের মতো হবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জন্য। আগামী ৪৮ ঘণ্টা এখন গোটা বিশ্বের জন্য এক চরম উৎকণ্ঠার সময়।


