logo

শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ মুকুট জয় করলেন বর্ণিতা

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | সময়ঃ ০২:৪০
  • সংবাদ পাঠকঃ ৯৩১ জন
photo

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’ মুকুট জয় করলেন রাজশাহীর মেয়ে বিদুষী বর্ণিতা। দীর্ঘ লড়াই আর অদম্য মনোবল তাকে এনে দিয়েছে এই সাফল্য। পথচলার এই অর্জন কেবলই শুরু। মুকুট জয়ের অনুভূতি আর আগামীর পরিকল্পনা নিয়ে বর্ণিতার তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- তারেক আনন্দ

 

মুকুট জয়ের মুহূর্তে মাথায় আসা প্রথম চিন্তাটি ঠিক কী ছিল?

মুকুট জয়ের মুহূর্তের সেই অনুভূতি আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ঠিক তার আগ পর্যন্ত আমি প্রচণ্ড উৎকণ্ঠায় ছিলাম। এত বেশি ভয় কাজ করছিল যে, জয়ের মুহূর্তটি তাৎক্ষণিকভাবে অনুভব করার মতো অবস্থায় ছিলাম না। সবকিছুই অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল; যেন পরাবাস্তব কোনো জগতে আছি। যে লক্ষ্যটি এতদিন কেবলই স্বপ্ন ছিল, সেই মাহেন্দ্রক্ষণকে আমার কাছে স্বপ্ন বলেই ভ্রম হচ্ছিল।

 

প্রতিযোগিতার দীর্ঘ যাত্রায় সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ কোনটি ছিল, যা আপনাকে আজ বদলে দিয়েছে?

দীর্ঘ এই যাত্রায় অনেকগুলো কঠিন ধাপ পার করে আসতে হয়েছে। তবে আমার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নিজের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ধরে রাখা। লক্ষ্য অর্জনে শতভাগ প্রচেষ্টার জন্য যে মানসিক শক্তির প্রয়োজন, তা বজায় রাখা ছিল বেশ কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, সবার ভালোবাসা ও সমর্থনে আমি সেই শক্তি পেয়েছি। নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিশ্রম করার যে সাহস তৈরি হয়েছে, সেটিই আজ আমাকে বদলে দিয়েছে এবং এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

এই জয়ের পর আপনার জীবনের প্রধান লক্ষ্য বা মিশন এখন কী?

বিজয়ের পর এখন আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হলো এই অর্জনের মর্যাদা রক্ষা করা। এটি এখন আমার কাছে একটি বিশাল দায়িত্ব। যারা এতদিন আমার জন্য পরিশ্রম করেছেন এবং ভালোবাসা দিয়েছেন, তাদের সেই আস্থার সম্মান রাখাটাই আমার বর্তমান মিশন। পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জগতেও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।

 

আপনার এই সফলতার কৃতিত্ব বা অবদান বিশেষভাবে কাকে দিতে চান?

এই সফলতার পুরো কৃতিত্বই আমার মায়ের। আমার আম্মু আমার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। শুরু থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ছায়ার মতো আমার পাশে ছিলেন। সত্যি বলতে, আমার জয়ের পর আমার চেয়ে তার উচ্ছ্বাসই ছিল অনেক বেশি। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্য, আমার বন্ধু এবং শুভাকাক্সক্ষীদেরও বড় অবদান রয়েছে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।

রাজশাহীর বর্ণিতা আজ সারাদেশের আইকন, মফস্বলের স্বপ্নদ্রষ্টা মেয়েদের উদ্দেশে কী বলবেন?

আমিও একসময় টেলিভিশনের পর্দায় তারকাদের দেখে স্বপ্ন দেখতাম, কখনও হয়তো আমিও ওখানে দাঁড়াতে পারব। তবে এত দ্রুত সেই স্বপ্ন সত্যি হবে, তা ভাবিনি। নিজের ওপর এই বিশ্বাসটুকু ছিল যে, একদিন না একদিন আমি সেই মঞ্চে পৌঁছব। তাই স্বপ্নদ্রষ্টা মেয়েদের বলবÑ আপনারাও স্বপ্ন দেখুন এবং বিশ্বাস করুন যে, তা সত্যি হওয়া সম্ভব। সেই বিশ্বাস ও পরিশ্রমকে সম্বল করে এগিয়ে যান; ইনশা আল্লাহ আপনাদের স্বপ্ন পূরণ হবেই।

রায়হান রাফীর সিনেমায় নায়িকা হওয়ার ঘোষণা শোনার পর আপনার তাৎক্ষণিক অনুভূতি কেমন ছিল?

রায়হান রাফী আমাদের দেশের একজন স্বনামধন্য নির্মাতা। এই দীর্ঘ পথচলায় মেন্টর হিসেবে তার সান্নিধ্যে এসে অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়েছে। তবে তার সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাব, সেটি ভাবনায় ছিল না। ঘোষণার পর মনে হচ্ছেÑ এটি একটি বড় দায়িত্ব। গুণী এই নির্মাতার কাজকে কতটা সার্থক করতে পারব, তা নিয়ে এখন ভাবছি। আমি আমার সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে এই দায়িত্ব পালন করতে চাই।

সিনেমা নিয়ে আপনার নিশ্চয়ই আলাদা কোনো চিন্তা আছে। বড় পর্দায় নিজেকে ঠিক কেমন চরিত্রে প্রথমবার দেখতে চান?

ছোটবেলা থেকেই আমি প্রচুর সিনেমা দেখি। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অনেক গুণী পরিচালকের কাজ দেখে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছি। আশার কথা হলোÑ বাংলাদেশেও এখন বিশ্বমানের সিনেমা নির্মাণ করা হচ্ছে। এমন সময়ে নিজেকে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ পাওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার। নির্দিষ্ট কোনো চরিত্রের কথা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না; যে চরিত্রে আমাকে মানাবে এবং আমি নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারব, সেটিই পছন্দ করব। একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমার ইচ্ছা যে কোনো চরিত্রেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।

 

 

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের কোন নির্মাতা বা অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার তীব্র আকাক্সক্ষা আছে?

আমাদের দেশে এখন অনেক মেধাবী নির্মাতা কাজ করছেন, যাদের সঙ্গে কাজ করার প্রবল ইচ্ছা আছে। নাম ধরে না বললেও তারা বর্তমানে চলচ্চিত্র অঙ্গন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমি মূলত নারীকেন্দ্রিক গল্পের সিনেমায় কাজ করতে আগ্রহী। সে ক্ষেত্রে সহশিল্পী হিসেবে জয়া আহসান ম্যামের মতো কাউকে পাওয়া হবে সৌভাগ্যের। আর অভিনেতাদের মধ্যে আমি আফরান নিশো স্যারের অনেক বড় ভক্ত। তাকে অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমি প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি। তবে তার সঙ্গে কাজ করার আগে নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করতে চাই।

গ্ল্যামার জগৎ আর ব্যক্তি বর্ণিতার একান্ত সাদামাটা জীবন- এই দুইয়ের ভারসাম্য রাখবেন কীভাবে?

গ্ল্যামার জগৎ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে কতটা পার্থক্য আছে, তা আমি এখনও ঠিক জানি না। আট-নয় মাস ধরে আমি গ্ল্যামারের সংস্পর্শে থাকলেও নিজের সাদামাটা সত্তাটিকে হারাইনি। উদাহরণ হিসেবে বলিÑ সবাই যখন নিজেকে আকর্ষণীয় করতে বিশেষ লেন্স বা জমকালো সাজগোজ পছন্দ করে, আমি তখনও ন্যাচারাল লুকেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। আমি নিজেকে ‘ডাউন টু আর্থ’ রাখতে চাই এবং গ্ল্যামারের বর্ণিতার সঙ্গে ব্যক্তি বর্ণিতার ভারসাম্য বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

সাফল্যের সঙ্গে আসা সমালোচনা বা নেতিবাচক মন্তব্য সামলানোর জন্য আপনি কতটা প্রস্তুত?

সাফল্যের পাশাপাশি নেতিবাচক মন্তব্য আসবেই, যা সামলানো বেশ কঠিন। সমালোচনা চোখে পড়লে খারাপ লাগে, নিজের ওপর মাঝেমধ্যে সংশয় তৈরি হয়। তবে এগুলো কাটিয়ে ওঠা এখন আমাকে শিখতে হবে। সবার প্রিয় হওয়া সম্ভব নয় এবং সেটি আমি প্রত্যাশাও করি না। আমার মধ্যেও ত্রুটি আছে। তবে সমালোচকরা যদি গঠনমূলক সমালোচনা করেন, তবে আমি তা সাদরে গ্রহণ করব এবং নিজেকে আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলব।

 

অভিনেত্রী হিসেবে বাণিজ্যিক ধারা নাকি বিকল্প ধারার সিনেমাÑ কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন?

এটি মূলত নির্ভর করবে গল্পের ওপর। তবে আমার আগ্রহ ক্রিয়েটিভ বা সৃজনশীল কাজের প্রতি। সে ক্ষেত্রে বিকল্প ধারার সিনেমাকেই হয়তো বেশি প্রাধান্য দেব। আমি ব্যক্তিগতভাবে ক্রিস্টোফার নোলান কিংবা কোয়েন্টিন টারান্টিনোর সিনেমার খুব ভক্ত। বাংলাদেশে যদি এই ঘরানার কাজ হয়, তবে অবশ্যই করতে চাই। পাশাপাশি আমাদের দেশের দক্ষ নির্মাতা ও লেখকদের সঙ্গে মানসম্মত কাজ করার ইচ্ছা আছে।

এক কথায় বা এক বাক্যে যদি জানতে চাইÑ বিদুষী বর্ণিতা আসলে কে?

নিজেকে এক বাক্যে প্রকাশ করা কঠিন। যারা আমাকে দেখছেন, তারাই হয়তো ভালো বলতে পারবেন। তবে এই মুহূর্তে আমি শুধু এটুকুই বলবÑ আমি সাধারণ এক মেয়ে, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনে নিজের স্বপ্ন জয় করতে পেরেছি। সামনের দিনে কতটা বদলে যাব জানি না, তবে বর্তমানের এই সাদামাটা সত্তা বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চাই।

 

শেয়ার করুন