logo

সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০১:২৭ অপরাহ্ণ

জামায়াতে ইসলামীর ‘মোনাফেকি নিয়ে মুখ খুললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব

প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | সময়ঃ ০৮:১২
  • সংবাদ পাঠকঃ ৪৭৫ জন
photo

ঢাকা অফিস : 

 

বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সম্প্রতি কিছু ইসলামী দল নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জামায়াতে ইসলামী নাম সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন,একটা দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে ইসলামী শাসন বা শারিয়া কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ন্যায্য প্রমাণ নেই। এ ধরনের দ্বৈত আচরণকে ধর্মীয় পরিভাষায় তিনি “মুনাফেকি” বা ধোঁকাবাজি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 
 
 
মুফতি মালেক বলেন, অনেক ভোটার দীর্ঘদিন ধরে মনে করে জামায়াত ক্ষমতায় এলে ইসলামী শাসন কার্যকর হবে। তারা নির্বাচনী প্রচারণায় “ইসলামী শাসন কায়েম হবে” শ্লোগান ব্যবহার করে। কিন্তু বড় মঞ্চে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, দলটি মধ্যপন্থী নীতি এবং রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। তিনি এটিকে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
 
 
 
মুফতি মালেকের বক্তব্য সাংবাদিক জাহেদ উর রহমানের কাছে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জাহেদ উর রহমান এই মন্তব্যের ভিডিও এবং বিশ্লেষণ সম্প্রতি শেয়ার করেছেন, যেখানে খতিব নির্বাচন এবং ইসলামী শব্দ ব্যবহারের দ্বৈত নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
 
 
 
খতিব বলেন, জামায়াতের অনেক প্রার্থী নির্বাচনী টকশোতে ইসলামী শাসন কার্যকর করার কথা বললেও, তাদের কার্যক্রম বাস্তবে তা অনুসরণ করে না। যারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা ইসলাম শব্দ ব্যবহার করে মানুষকে আকৃষ্ট করছে, কিন্তু প্রধান মঞ্চে বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের বক্তব্য ভিন্ন।
 
 
 
তিনি ভোটারদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, কেবল দলের নাম বা ইসলাম শব্দ দেখে ভোট দেওয়া উচিত নয়। প্রার্থীর নীতি, ক্ষমতা এবং ইসলামের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। ইসলাম শব্দ ব্যবহার মানেই ওই দল ইসলামের আদর্শ বাস্তবায়ন করবে, তা নয়। এটি জনগণের কাছে বিভ্রান্তিকর।
 
 
 
মুফতি মালেক আরও যোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দল যদি ইসলামী রাজনীতি বা শারিয়া কার্যকর করতে না চায়, তবে তাদের উচিত দলের নাম পরিবর্তন করা। এতে জনগণ বিভ্রান্ত হবেনা।
 
 
 
খতিবের এই মন্তব্য নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, জনগণ এই দ্বৈত নীতি বুঝবে এবং ভোটের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে। জাহেদ উর রহমান ভিডিওতে তুলে ধরেছেন, সচেতন ভোটাররা কোনো প্রার্থীকে ধর্মীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করতে পারবে না।বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে মুফতি মালেকের মন্তব্য সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের গুরুত্বকে সামনে রেখে।

শেয়ার করুন