অনলাইন ডেক্স :
সুদানের গৃহযুদ্ধ দেশটির নারীদের জন্য এক বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটির সমাজকল্যাণমন্ত্রী সুলাইমা ইশহাক আল খলিফা জানিয়েছেন, সুদানের নারীরা বর্তমানে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ’ যৌন সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, আর এসব অপরাধ ঘটছে সম্পূর্ণ দায়মুক্তির সঙ্গে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই যুদ্ধের সবচেয়ে করুণ শিকার হচ্ছেন নারীরা।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের ক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাছবিচার করা হচ্ছে না। এক বছরের শিশু থেকে শুরু করে ৮৫ বছরের বৃদ্ধাÑ কেউই এই পাশবিকতা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের সামনেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে।’
মন্ত্রী সুলাইমা ইশহাকের মতে, আরএসএফ ধর্ষণকে ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে। এর উদ্দেশ্য কেবল অপমান করা নয়, বরং জাতিগত নিধন এবং মানুষের মনোবল ভেঙে তাদের এলাকা ছাড়া করা। এসআইএইচএ নেটওয়ার্কের তথ্যমতে, নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার ৮৭ শতাংশের জন্যই দায়ী আরএসএফ।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা এতটাই যে, নারীদের অপহরণ করে যৌনদাসী বানানো হচ্ছে অথবা প্রতিবেশী দেশে পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক লজ্জার ভয়ে অনেক পরিবার ভুক্তভোগী মেয়েদের জোরপূর্বক বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, মালি, শাদ ও লিবিয়ার মতো দেশের ভাড়াটে সেনারাও এই নির্যাতনে জড়িত।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) দারফুরে সংঘটিত এই ঘটনাগুলোকে ‘সংগঠিত যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করছে।