logo

সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ১৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০১:২৭ অপরাহ্ণ

সাশ্রয়ী ও বাস্তবসম্মত উন্নয়ন প্রকল্পে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই : তারেক রহমান

প্রতিবেদন প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ০৩:০০
  • সংবাদ পাঠকঃ ৮৫৫ জন
photo

বগুড়া প্রতিনিধি : 

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন,গত ১৫ বছরে দেশে মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কোনো মেগা প্রকল্পে যাবে না। সাশ্রয়ী ওবাস্তবসম্মত উন্নয়ণ প্রকল্পে আমরা গুরুত্ব দিতে চাই।

 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দিনগত মধ্যরাতে বগুড়া শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আসন্ন নির্বাচন শুধু নির্বাচন নয়, এই নির্বাচন নিশ্চিত করবে আগামি দিনের সরকার দেশের মানুষের কাছে জবাবদিহিমূলক হবে কী না। নির্বাচন নিয়ে তাই সতর্ক থাকতে হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ হবে দেশ কোন দিকে যাবে।

 

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি বগুড়াকে মডেল জেলায় রুপ দিয়েছে। সেই অনুসারেই বাকি ৬৩ টি জেলাকে সাজানোর পরিকল্পনা করেছিল বিএনপি। শুধু বগুড়া নয়, গত ১৭ বছর গোটা বাংলাদেশই বঞ্চিত হয়েছিল।

২০০১-২০০৫ সালে বগুড়ার জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন,নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে যে বগুড়া সদর সহ সমগ্র জেলায় মানুষের প্রয়োজনে যেই কাজগুলো করা দরকার ছিল আমরা চেষ্টা করেছি সব কাজগুলো কম বেশি করার জন্য হয়তো আমরা ১০০% সাকসেসফুল হইনি কিন্তু কিন্তু যতটুকু পেরেছি সরকারের আইন কানুন ও রীতিনীতির মধ্য থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে আমরা চেষ্টা করেছি…এই বনানী মাটিডালি রাস্তায় বলুন, এই যে চওড়া রাস্তা বলুন, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ বলুন, গ্যাসের লাইনের কথা বলুন, এরকম আরো বিভিন্ন উন্নয়নের কাজের কথা বলুন না কেন যা যা মানুষের প্রয়োজন আমরা চেষ্টা করেছি।

সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন নিজের জন্য এবং বগুড়ার অন্যান্য আসনগুলোর প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষে ভোট চেয়ে বলেন, আজ এই মুহূর্তে আমার আপনাদেরকে কিছু দেবার নাই। এই মুহূর্তে আপনাদের(বগুড়াবাসী) কাছে শুধু আমার চাইবার আছে। ঘরের মানুষ এই যে, আমি এত রাত্রে যে মিটিং করছি, এই যে রাজনীতি করছি, এ যে কাজ করছি… আমার স্ত্রী যদি আমাকে সহযোগিতা না করতেন আমি কিন্তু পারতাম না। উনার সহযোগিতা আছে বলেই আমি পেরেছি। ঠিক একইভাবে আপনারা বগুড়ার মানুষ যদি আমার পাশে থাকেন,আমাকে যদি মানসিকভাবে শক্তি সমর্থন আপনারা দেন তাহলে ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে আগামী দিনে একটা সুন্দর ভালো শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবো। কাজেই আমি আপনাদের কাছে চাইতে এসেছি আপনাদের সমর্থন, আপনাদের সহযোগিতা, আপনাদের দোয়া আপনাদের কাছ থেকে আমি চাইতে এসেছি।”

 

তারেক রহমান বলেন, আপনাদেরই আরেক সন্তান সবসময় বলতেন… তার নাম হচ্ছে শহীদ জিয়াউর রহমান উনি বলতেন, দেশকে গড়তে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা কাজ না করলে আমাদের দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারবো না। কাজেই উনার কথার সাথে মিল রেখে আমি একটা কথা বলি… সবসময় প্রত্যেক জায়গায় বলেছি, সেই কথাটা হচ্ছে, করব কাজ,গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

নওগাঁ থেকে ৭টার দিকে তারেক রহমানের গাড়িবহর বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথে পথে নেতা-কর্মীরা রাস্তার দুই ধারে সমবেত হয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ছিলো ঘন্টার পর ঘন্টা। সেই কারণে তা ডিঙিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে নির্ধারিত সময়ের চাইতে সাড়ে চার ঘন্টারও বেশি সময়ে লেগে যায়।

বগুড়া শহরে দিয়ে নিজের নির্বাচনী আসনের বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে তারেক রহমান আলফাতুন্নেসা খেলার মাঠে পৌঁছান। এই সময়ে পুরো সমাবেশ স্থল স্বাগত শ্লোগানে সরব হয়ে উঠে । তারেক রহমান মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এই সময়ে মঞ্চে ছিলেন তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানও।

 

তারেক রহমান মঞ্চে আসন গ্রহন করার পর সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহে মাগফেরাত হয়ে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর এই প্রথম বগুড়া আসলেন তারেক রহমান। নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর আগে বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এক শোকসভায় যোগ দিতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ বগুড়া সফর স্থগিত করেন তারেক রহমান।

আসন্ন নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন ছাড়াও ঢাকা-১৭ আসনে প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান।

নির্বাচনী জনসমাবেশে বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলম, বগুড়া –৩ আসনে আবদুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনে মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনে প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া -৭ আসনের মোরশেদ মিলটনকে পরিচয় করিয়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

জেলা সভাপতি রেজাউল করীম বাদশার সভাপতিত্বে এই নির্বাচনী সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য একেএম মাহবুবুর রহমান, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলার নেতারা বক্তব্য রাখেন। 

উত্তরাঞ্চল তিনদিনের সফরের দুপুরে তারেক রহমান ঢাকা থেকে বিমান যোগে রাজশাহী পৌঁছান। রাজশাহী মাদ্রাসা মাঠে এবং নওগাঁ এটিম মাঠে দুইটি নির্বাচনী জনসভা করে রাতে বগুড়ায় আসলেন তিনি।

রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান বগুড়া নাজ হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন। শুক্রবার বিকালে তারেক রহমান সড়কপথে রংপুরে পীরগঞ্জ যাবেন ২৪‘ ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে। সেখান থেকে রংপুর ঈদগাহ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

শেয়ার করুন