অফিস ডেস্ক
ঢাকা অফিস :
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের আসন বন্টননিয়ে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দলটির শীর্ষনেতাদের একটি বড় অংশ জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়া নিয়ে আপত্তি তুলেছেন।তবে দলীয় নেতাদের প্রভাবশালী অপর অংশ জোটের হয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তারা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে আসন বন্টনের সুযোগ এখনও আছে।
দলের নেতাদের এই মতবিরোধ নিরসনে এবংএবং চূড়ান্ত অবস্থান ঠিক করতে আজ বুধবার দুপুরে ইসলামী আন্দোলনের সর্বোচ্চ ফোরাম ‘মজলিসে আমেলা’র জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার কয়েক দফা বৈঠক হয়। জামায়াতের পক্ষে থেকে ইসলামী আন্দোলনকে প্রথমে ৪০ ও পরে আরও ৫টি বাড়িয়ে ৪৫টি আসনে প্রাথী দিতে বলা হয়। কিন্তু এতে সম্মত হয়নি ইসলামী আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি কমপক্ষে ৭০টি আসনে। এতে অপারগতা জানিয়েছে জামায়াত।
চাহিদামতো আসন না পাওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের একটি বড় অংশ জোটবদ্ধ নির্বাচন থেকে সরে আসার পক্ষে মত দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত দলটির মজলিসে শূরার বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হলেও সদস্যরা একমত হতে পারেননি। এক পক্ষ জোটের বৃহত্তর ঐক্যের পক্ষে থাকলেও অন্য পক্ষ নিজেদের শক্তির বিচারে একক লড়াইয়ের পক্ষে মত দিয়েছে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত আমাদের দলের মজলিসে শূরার বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন রকম মতামত এসেছে। এখনও আমার জোটের হয়ে নির্বাচন করবো নাকি এককভাবে নির্বাচন করবো, এ বিষয়ে একমত হতে পারিনি। বুধবার আমাদের সর্বোচ্চ ফোরাম ‘মজলিসে আমেলা’র জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এদিন আমরা মতামতগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করবো। তবে এখন পর্যন্ত ১১ দলীয় সমঝোতায় থাকা-না থাকার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের স বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, সব ঠিকই আছে। এখনো সময় আছে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হবে বলে আমরা এখনো আশাবাদী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ দিন জামায়াতে ইসলামী মোট ২৭৬টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জমা দেয় ২৬৮ আসনে মনোনয়নপত্র।