অফিস ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ইরানে চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলন দিন দিন আরও সহিংস রূপ নিচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। খবর বিবিসি, আল জাজিরা।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) নরওয়েভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটসের (আইএইচআর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতাসীন সরকার ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে টানা দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে অন্তত ১৯২ জন নিহত হয়েছেন।
এর আগে ইরানে বিক্ষোভে ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি। তবে নতুন হিসাবে সেই সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, গত কয়েক দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা সীমিত থাকায় তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা প্রকাশিত হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, দেশজুড়ে বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও ত্রাণ সহায়তা কেন্দ্রের ওপর হামলার খবরও পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রকাশ্যে সহিংসতা উসকে দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ফলে বাইরের শক্তির সমর্থনে বিভিন্ন গোষ্ঠী দেশের ভেতরে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগে করে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।
তারই অংশ হিসেবে রবিবার কয়েকশ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পুলিশ।
এদিকে গতকাল বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ার করে ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ বলেছেন, ‘যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের আল্লাহর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ ইরানে এ অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আইনত মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় রবিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও জনগণের দাবি নিয়ে কথা বলবেন। তিনি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ক্ষমতাসীন সরকারের অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের উপায় ও পরিকল্পনা তুলে ধরবেন।
এদিকে গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর দুই সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলছে। আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে, কিন্তু দ্রুতই তা রাজনৈতিক রূপ নেয়।