logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ০২:০০ অপরাহ্ণ

কুষ্টিয়ার বাগুলাটে শীতার্ত মানুষের মাঝে উষ্ণতার পরশ কম্বল বিতরণ কর্মসূচি

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ | সময়ঃ ১১:৫৯
  • সংবাদ পাঠকঃ ৪৯৪ জন
photo

 
মো. মুনজুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : 
 
 
হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে জনপদ, ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা গ্রামবাংলা। কনকনে শীতের তীব্রতায় যখন দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে আরও কঠিন ও দুর্বিষহ, ঠিক তখনই মানবতার উষ্ণ স্পর্শ নিয়ে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে একটি অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন— ‘প্রিয় বাগুলাটবাসী’।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের নিতাইলপাড়া গ্রামে অবস্থিত মারকাজুল উলুম সুফিয়া মহিউদ্দীন কওমী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ কর্মসূচি–২০২৬। এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আগত প্রায় সাড়ে সাত শতাধিক দুস্থ, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
সকাল থেকেই হাড়কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভিড় জমান।কারও গায়ে পাতলা চাদর  কারও গায়ে পাতলা কাপড়—একটি কম্বলের আশায় তাদের অপেক্ষা। আয়োজকদের হাত থেকে কম্বল পেয়ে অনেকের মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির হাসি, চোখে দেখা যায় স্বস্তির ঝিলিক। একটি কম্বল যেন তাদের কাছে হয়ে ওঠে নিরাপত্তা, উষ্ণতা আর বেঁচে থাকার আশ্বাস।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ মনিরুজ্জামান বারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী সচিব আব্দুর রশিদ মোল্লা এবং বন বিভাগের সাবেক জিএম মো. দারুস জামান মন্টু। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান মন্টু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন— মেজবাউর রহমান সেন্টু (প্রাক্তন অ্যাসিস্ট্যান্ট সেলস ম্যানেজার, অ্যারিস্টো ফার্মা লিমিটেড), মো. লুৎফুর রহমান (উপ হিসাব পরিচালক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), মো. ইবাদত হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খবিরউদ্দিন, ডা. মোঃ শহিদুল ইসলাম, হাজী মো. নজরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সমাজসেবীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ মনিরুজ্জামান বারি বলেন,“মানবতার সেবাই সবচেয়ে বড় ইবাদত। শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।”তিনি আরও বলেন, “দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনও বহু মানুষ শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। সরকার ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই দুর্ভোগ লাঘব করতে।”
তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি সমাজে সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও দৃঢ় করে। রাজনীতি বা মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত দেশপ্রেম—বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, শীত মৌসুমে নিয়মিত এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কষ্ট অনেকাংশে লাঘব হবে। ভবিষ্যতেও মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সংগঠনের দায়িত্বশীলরা জানান,“মানুষ মানুষের জন্য—এই বিশ্বাস থেকেই আমাদের পথচলা। রাজনীতি নয়, মানবতাই আমাদের মূল শক্তি। সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতায় আমরা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল আলেমগণ এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষ যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে শীতার্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
শীতের কনকনে ঠান্ডায় ‘প্রিয় বাগুলাটবাসী’র এই আয়োজন শুধু কম্বল বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। নিঃশব্দে, নিরলসভাবে মানবতার পাশে থেকে সমাজ গঠনে ভূমিকা রেখে চলেছে এই অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন—যাদের উষ্ণতায় শীতও হার মানে।
 
 

শেয়ার করুন