logo

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ১২:১৪ অপরাহ্ণ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা এনওসি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন

অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | সময়ঃ ০৬:৫২
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৪৬৩ জন
photo

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : 

 

অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ না করেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা রিয়া দিবা-এমন তথ্য জানা গেছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল. ডিগ্রি অর্জনের উদ্দেশ্যে দুই বছরের শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। তার শিক্ষাছুটি শুরু হয় ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। তবে শিক্ষাছুটির মেয়াদের শেষ পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গমন করেন।

সূত্র অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং এখনো সেখানে অবস্থান করছেন।

 

দপ্তর সূত্র জানায়, সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্য যে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক, সেটি তিনি নেননি।

এ বিষয়ে তার এম.ফিল. সুপারভাইজার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘তার এম.ফিল. এখনো সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি দেশের বাইরে গেছেন কি না, সে বিষয়েও আমি অবগত নই।’

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রায়হানা আক্তার বলেন,‘তার বিদেশ গমনের বিষয়টি সহকর্মীদের কাছ থেকে শুনেছি। তবে তিনি আমাকে সরাসরি কিছু জানাননি এবং কোনো অনাপত্তিপত্রও নেননি। যদি তিনি অনুমতি ছাড়াই দেশের বাইরে গিয়ে থাকেন, তাহলে তা চাকরির বিধিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন। প্রশাসন এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হুদা বলেন, ‘তার বিদেশ গমনের বিষয়ে আমি অবগত নই। বিভাগ থেকে জানানো হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হবে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চাকরিরত অবস্থায় অবশ্যই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে দেশের বাইরে যেতে হয়। অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমনের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে এ বিষয়ে জানতে সহকারী অধ্যাপক ফারহানা রিয়া দিবার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে নিয়মিত সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষাছুটিতে থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দিয়ে থাকে। ছুটি শেষে বিভাগে না ফিরে বিদেশে অবস্থান করা হলে বেতন ফেরত নেওয়াসহ প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

আরেক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এম.ফিল. বা পিএইচডির জন্য শিক্ষাছুটিতে থেকেও বেতন নেওয়া হয়। এরপর ডিগ্রি শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে না ফিরে বিদেশে থেকে যাওয়া অনৈতিক এবং প্রতারণার শামিল। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থা ও দেশের জন্য ক্ষতিকর।’

শেয়ার করুন