অফিস ডেস্ক
যশোর অফিস :
যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন সাগর শেখ ২৬ মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক এমপি কাজী নাবিলের অনুসারী ছিলেন। তার ভাই রমজান শেখও ছিলেন যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একজন। রমজান ছিলেন ২৯ মামলার আসামি। সাগর ও রমজান যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা ফয়েজ শেখের ছেলে। খুলনায় গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
গত বছরের ৮ মার্চ রাতে নিজ এলাকায় প্রতিপক্ষ রমজানকে কুপিয়ে হত্যা করে। সাগর শেখ দীর্ঘদিন খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে খুলনার রূপসায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাগর ও রমজানের পিতা ফয়েজ শেখের আদি বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাজলিয়া গ্রামে। বেশ আগে থেকে তারা যশোর শহরের রেলগেট পশ্চিমপাড়ায় বসবাস শুরু করেন। তার ৫ ছেলের মধ্যে সাগর ও রমজান দীর্ঘদিন থেকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িত। আওয়ামী লীগ আমলে রমজান যশোরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ম্যানসেল বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তার নামে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা ছিল ২৯টি। ২০২৪ সালের ৮ মার্চ রাত ১০টার দিকে রমজানকে তার বাড়ির গলির মধ্যেই কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ার দ্বন্দ্বে পিচ্চি রাজা নামে অপর এক সন্ত্রাসীসহ কয়েক দুর্বৃত্ত তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে হত্যা করে।
যশোর কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাগর শেখ হত্যা, ডাকাতি, বিস্ফোরক, অস্ত্র, হত্যাচেষ্টা, চুরি ও মাদকসহ মোট ২৬টি মামলার আসামি। এর মধ্যে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানায় একটি ও যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় ২৫টি মামলা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে সাগর শেখ যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর তিনি খুলনায় আত্মগোপনে ছিলেন। গত ১৬ মে খুলনার রূপসা এলাকা থেকে সাগর শেখকে আটক করে র্যাব। পরে তাকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি পুনরায় রূপসা এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিলেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার রূপসা সেতুর পূর্ব পাশে জাপুসা এলাকার চৌরাস্তার পূর্ব পাশে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
খুলনার রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর বলেন, ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ থেকে পুলিশকে ঘটনাটি অবহিত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাগরের মাথা ও হাঁটুতে দুইটি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাগর আগে যশোরে থাকতেন এবং বর্তমানে রূপসা এলাকায় জমি কিনে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন বলে তারা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। তবে কারা এবং কী কারণে তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নিহতের মা রেখা খাতুন হত্যা মামলা করেছেন।’
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) আবুল বাশার বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড খুলনায় ঘটেছে। তাই বিষয়টি সেখানকার পুলিশ দেখবে। তবে, তারা কোন সহযোগিতা চাইলে আমরা তা করব।’