logo

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০১:৪৫ অপরাহ্ণ

সাঙ্গ হলো লালন স্মরণোৎসব

প্রতিবেদন প্রকাশ: ২০ অক্টবার ২০২৬ | সময়ঃ ১২:২৯
  • সংবাদ পাঠকঃ ১০২৬ জন
photo

 জনতার পত্রিকা : 

 

:

মরমী কবি বাউল লালন সাঁই এর ১৩৬তম তিরোধান দিবসের তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়  রোববার  দুপুরে র্পূন্য সেবার মধ্য দিয়ে।এরপর অনেক সাধু নিজ নিজ গন্তেব্যে ফিরতে শুরু করেন।


সমাপ্তি  দিবসের  অনুষ্ঠানে প্রধান  অতিথি ছিলেন  বিদ্যুৎ ,জ¦ালানী ও কনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এমপি । বিশেষ অিিথতি ছিলেন সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান। 


তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ,আলোচনাসভা ও গ্রামীণ মেলা চলবে  গভীর রাত পর্যন্ত।
তবে আজ সোমবার আখড়াবাড়ির প্রধান ফটকের কাছে টাইম বোমা সাদশ্য বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় সাধু-বাউল ও ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক সাধু তড়িঘড়ি করে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করছেন।


সোমবার সকালে পুলিশের বিশেষায়িত এসআরইউ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া বোমা নিষ্ক্রিয় করে।

ঘটনার পর সাধু-বাউল ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। আখড়াবাড়িতে আগত অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেন, এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও, আখড়াবাড়ির মূল মঞ্চে লালনসংগীতের আসর এবং আখড়াবাড়িসংলগ্ন কালী নদীর তীরে বসা গ্রামীণ মেলা আজ সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। উৎসবকে ঘিরে মেলা প্রাঙ্গণে এখনো দর্শনার্থীদের উপস্থিতি রয়েছে চোখে পড়ার মত। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় আখড়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নজরদারি বাড়িয়েছে।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, আখড়াবাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বোমাটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


১৩৬ বছর আগে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় দেহত্যাগ করেন বাউল স¤্রাট ফকির লালন সাঁই। তার মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শন আজও সাধু-ফকির ও অনুসারীদের অনুপ্রেরণা জোগায়।  বিদায়ের বিষাদ ছাপিয়ে লালনের সেই মানবতার বাণীই আবারও উচ্চারিত হচ্ছে আখড়াবাড়িতে। নিরাপদ থাকবে সাঁইজির ধাম, নির্বিঘ্নে চলবে সাধনা ও মরমি গানের চর্চা সাধু-বাউলদের এমনটি প্রত্যাশা। 

শেয়ার করুন