: শামসুল আলম স্বপন :
উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত বাউল সম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ১৭ অক্টোবর থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন ধামে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে । তবে আগে ভাগেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনুষ্ঠানে আসতে শুরু করেছে লালন ভক্ত অনুসারীরা।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারও সবজি নামের গাজা ও মাদক ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে ছিল তাদের ব্যবসা হবে রমরমা । এর আগের অনুষ্ঠান গুলোতে ২০ মনের বেশী গাজা বিক্রি করেছিল তারা। এখানে গাজা ও মাদক ব্যবসায়ীদের রয়েছে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক । তারা মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে অসাধু পুলিশ, নীতিহীন কথিত সাংবাদিক আর স্থানীয় মাস্তানদের। কিন্তু এবার কপাল খারাপ গাজা ও মাদক ব্যবসায়ীদের ।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন হাসান এবং কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন লালনের অনুষ্ঠানে মাদক ও গাজা বিক্রি জিরো টলারেন্সের । এ ঘোষণা শুধু মৌখিক ঘোষণা নয় গত ১২ অক্টোবর থেকে মাদক ও গাজা বিক্রির বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান চালানো হচ্ছে । আটক করা হচ্ছে গাজা ব্যবসায়ীদের আর গাজা খাওয়ার বাঁশি নামের কলকি । এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশী কলকি জব্দ করা হয়েছে।
তাতেই কুষ্টিয়ার ডিসি ও এসপি’র বিরুদ্ধে ক্ষেপেছে গাজা ও মাদক ব্যবসায়ীরা।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন গাজা ব্যবসায়ী বলেন, প্রতিবারই তো প্রশাসন গাজা বেঁচার বিরুদ্ধে ঘোষণা দেয়। কিন্তু তাদের চাহিদা মাফিক টাকা দিলে লোক দেখানো অভিযান চালায় । আমরা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করি। এবারও তাই মনে করেছিলাম কিন্তু এবার কাউকে ম্যানেজ করতে পারছি না। লসের বোঝা মাথায় নিয়েই হয়তো এবার শতাধিক গাজা ব্যবসায়ীকে বাড়ি ফিরতে হবে। যাদেরকে আগাম টাকা্ দিয়েছি ওটায় লস । বর্তমান ডিসি ও এসপি কুষ্টিয়ায় থাকা পর্যন্ত আমরা আর লালন মেলায় আসবো না। গা্জা বিক্রেতা শুধু নয় গাজা খোররাও জানালেন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া । বললেন সাঁইজির ধামে এসে সিদ্ধি না খেয়ে ফিরে যাবো এটা কি হয়।
মানিক গঞ্জের আমানত শাহ বলেন, প্রশাসন গাজা বিক্রি ঠেকাতে মরিয়া । কিন্তু ভক্ত সেজে অনুষ্ঠানের সামনে বসা সকলেই গাজার ব্যবসায়ী। ওরা বসার মাদুরের নীচে গাজা ও মাদক দ্রব্য রেখে দালালদের মাধ্যমে বিক্রি করে। অথচ প্রশাসন ভুল জায়গায় অভিযান চালায় । যে কারণে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন লালনের অনুষ্ঠানে গাজা ও মাদক বিক্রি করার ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করলেও গাজা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে।
লালন ভক্ত নাটোরের সোহেল শাহ বলেন, আখড়া বাড়িতে গাজা খাওয়া পুরানো রেওয়াজ । আমরা একে সিদ্ধি বলে থাকি । সিদ্ধি সেবন করা তেমন দোষের না।
তিনি বলেন লালনের ধামে গাজা বিক্রি করা ঠেকালেও গড়াই নদীর ধারে পার্কের আশে পাশে দেদারছে গাজাসহ নানা ধরণের মাদক দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে ,সেখানে প্রশাসন নীরব।
লালন মেলাকে ঘিরে কুষ্টিয়ার গড়াই নদীর তীরে রবীন্দ্র-লালন উদ্যানের সামনে বসছে গাঁজার আসর। কুমারখালী উপজেলা মাদকমুক্ত রাখার উদ্যোগ দেখা গেলেও কুষ্টিয়া সদর যেন দূষিত হচ্ছে মাদকের আসরে।
অপর দিকে লালন মাজারে গাজাও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরপাকড় এবং গাজা ও কলকি জব্দ ও অভিযান অব্যহত রাখায় প্রশংসা্য় ভাসছেন কুষ্টিয়ার ডিসি ও এসপি । মিলপাড়ার বাসিন্দা ও সমাজসেবী মোশারফ হোসেন বলেন কুষ্টিয়ার ডিসি ও এসপিকে সাধারণ মানুষ ধন্যবাদ দিচ্ছে । আমি তাদের জন্য দোয়া করি শুধু লালন মেলা নয় সারা কুষ্টিয়াকে যেন এ ভাবে মাদক মুক্ত করে যুব সমাজকে রক্ষা করেন।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “নিকুশিমাজের” নির্বাহী পরিচালক সালমা সুলতানা বলেন,আমার জীবনে এবারই প্রথম দেখলাম গাজা ও মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াষি অভিযান। এ জন্যে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।