logo

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ০১:১৭ অপরাহ্ণ

লালন তিরোধান দিবসের প্রস্ততি সম্পন্ন

সাধু-ভক্তদের আগমন শুরু
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৪ অক্টবার ২০২৬ | সময়ঃ ০৩:২৪
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৯৭৬ জন
photo

 

শামসুল আলম স্বপন :

 


উপ-মহাদেশের প্রখ্যাত বাউলসম্রাট লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ছেঁউড়িয়ার লালন ধামে (আখড়াবাড়ি) তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে । এ উপলক্ষে  মূল মঞ্চের সামনে বাঁশের খুঁটি গেড়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। উৎসবের প্রস্তুতি হিসেবে মাজার প্রাঙ্গণ ও আখড়াবাড়িতে চলছে ঘষামাজা, রং-তুলি ও সাজসজ্জার কাজ।


ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাধু-ভক্তরা আসতে শুরু করেছেন আখড়াবাড়িতে । লালন মেলায় বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন ধরনের দোকান ।
গত ১২ অক্টোবর সোমবার  বিকেলে সরেজমিনে যেয়ে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই লালনধাম উৎসবের আমেজের রূপ ধারণ করবে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, বাউল ও লালনভক্তরা আসতে শুরু করায় প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে । এবার লক্ষাধিক দেশী -বিদেশী লালন ভক্তের আগমন ঘটবে সাঁইজির ধামে এমনটি আশা করছে আয়োজকেরা ।

 

লালন একাডেমির সভাপতি,কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান দৈনিক আমাদের সময়কে জানান, লালন তিরোধান দিবস দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীরা লালনধামে সমবেত হন। এটি শুধু কুষ্টিয়ার নয়, বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, মানবিকতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি আয়োজন। তিনি আরও বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি ও কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে ।


বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস নিরাপদ, মাদকমুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ। কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোঃ আমিনুল ইসলাম দৈনিক আমাদের সময়কে জানান আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়া ধামে ৩ দিনব্যাপী  মহা-উৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দিবসটিকে কেন্দ্র করে মেলা চত্বর ও এর আশেপাশের এলাকা সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত রাখতে এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরী করা হবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ সর্তক অবস্থানে থাকবে।

 
এ দিকে লালন মাজার এলাকা মাদক মুক্ত করতে  গত  ১১ অক্টোবর রোববার বিকেলে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অভিযান চালানো হয়। কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্বে  ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শিকদার মোঃ হাসান ইমাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) ফয়সাল মাহমুদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার।


কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ জামাল উদ্দিনের তত্ব¦ধানে পুলিশের একটি দল মেলা চত্বর ও এর আশেপাশের সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি ও টহল পরিচালনা করে। অভিযানকালে মেলা এলাকায় আগত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র তল্লাশি করা হয়। মেলা ও আখড়া চত্বরে যেন কোনো ধরনের গাঁজা বা অন্য যেকোনো মাদকদ্রব্যের সেবন, কেনাবেচা বা বিস্তার না ঘটে, সে বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়।

                              (মাদকের বিরুদ্ধে লালন মেলায় চলছে পুলিশের বিশেষ অভিযান )
 

 

কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) জামাল উদ্দিন জানান, বাউল সম্রাটের এই আন্তর্জাতিক মানের মিলনমেলা যেন সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনুষ্ঠান শেষ হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।


আয়োজক কমিটির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিরোধান দিবসের আয়োজনের প্রস্তুতি এখন শেষ পর্যায়ে। মঞ্চ, সাজসজ্জা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সহ প্রয়োজনীয় কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে সাধু-ভক্ত ও দোকানিরা আসতে শুরু করেছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্ততি সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানান।
লালন অনুসারি ফকির সলেমান শাহ জানান,লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস তাদের কাছে উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও মানবতার মিলনমেলা। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এখানে আসেন। এবারও আগেভাগেই লালনধামে আসতে শুরু করেছেন, এবার জমজমাট উৎসব হবে । 
 

শেয়ার করুন