logo

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

জেলার. আব্দুল ফাত্তাহ চাকরি থেকে ব'রখাস্ত

প্রতিবেদন প্রকাশ: ১২ অক্টবার ২০২৬ | সময়ঃ ১১:৪৯
  • সংবাদ পাঠকঃ ১৫৭৭ জন
photo

 পঞ্চগড়  প্রতিনিধি : 
 
সরকারি অর্থ খরচের হিসাব রাখার কথা যাঁর দায়িত্বের অংশ, তাঁর বি*রুদ্ধেই উঠেছে সরকারি টাকা আ"ত্মসাতের অ'ভিযোগ। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভু'য়া বিল পাস করে সরকারি ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আ'ত্মসাতের অ'ভিযোগে পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে ব'রখাস্ত করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জা'রি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আব্দুল ফাত্তাহ ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলা কারাগারের জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে কারাগারের খোরাকি ও রেশন খাতে সরকারি অর্থের অ'নিয়ম এবং আ'ত্মসাতের অ'ভিযোগ ওঠে তাঁর বি*রুদ্ধে।
বিষয়টি সামনে আসে কারাগারের আর্থিক বিভাগের নিরীক্ষায়। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ের নিরীক্ষায় সরকারি অর্থ তছরুপ ও বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে। পরে কারা অধিদপ্তর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি সরেজমিন তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩-২০২৪ ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ৫৭টি ভু'য়া বিল পাস করা হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’। এসব বিলের মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আ'ত্মসাতের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তথ্যসূত্র বাংলা ভিশন
এসব অ'ভিযোগ ও ত'দন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আব্দুল ফাত্তাহকে চাকরি থেকে ব*রখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। কারাগারের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে সরকারি অর্থের হিসাব যাচাই, বিল অনুমোদন এবং আর্থিক নিরীক্ষার একাধিক ধাপ থাকার কথা। তাহলে তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভু'য়া বিল কীভাবে পাস হলো? এত বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম নিরীক্ষায় ধরা পড়ার আগে সংশ্লিষ্ট তদারকি ব্যবস্থার ভূমিকা কী ছিল?
একজন কর্মকর্তার বি*রুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারি অর্থের অনিয়মের ক্ষেত্রে শুধু একজনকে ব*রখাস্ত করেই দায়িত্ব শেষ করা যায় না। অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়ায় আর কারও ভূমিকা ছিল কি না, সংশ্লিষ্ট বিলগুলোর বিপরীতে কোনো পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হয়েছিল কি না এবং আ'ত্মসাতের অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, সেসব প্রশ্নেরও জ'বাব প্রয়োজন।
কারণ এই টাকা কোনো ব্যক্তির নয়, জনগণের করের টাকা। এর প্রতিটি টাকার হিসাব নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের সঙ্গে জ'ড়িত প্রত্যেকের দায় নির্ধারণ করা জ'রুরি।

শেয়ার করুন