আন্তর্জাতিক ডেস্ক :থাইল্যান্ডের নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেম, বিয়ের পর ৬০ লাখ রুপি (বাংলাদেশি টাকায় ৭৬ লাখ ৫৩ হাজার) নিয়ে পালিয়েছেন ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে মোহাম্মদ ইরফান নামের এক যুবক। ওই নারী ভারতে এসে মামলা করায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওই নারীর অভিযোগ, টাকা ফেরত চাইলে তাকে ধর্ম পরিবর্তন করে ভারতে এসে বসবাসের পাশাপাশি বোরকা পরার চাপও দেওয়া হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অভিযোগকারী নারীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, থাইল্যান্ডের বাসিন্দা উপসর্ন একটি রেস্টুরেন্ট ও ক্যান্টিন পরিচালনা করেন। প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কানপুরের চামড়া ব্যবসায়ী ইরফানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইরফান নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে প্রায় দুই বছর আগে থাইল্যান্ডে উপসর্নকে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর ব্যবসার প্রয়োজন ও বিভিন্ন খরচের কথা বলে ইরফান তার কাছ থেকে দফায় দফায় টাকা নেন। উপসর্নের দাবি, নিজের ব্যবসার আয় ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করা অর্থ মিলিয়ে তিনি ইরফানকে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা দেন। পরে ইরফান তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে ভারতে ফিরে আসেন।
দীর্ঘদিন স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে গত ৬ অক্টোবর কানপুরে ইরফানের বাড়িতে যান উপসর্ন। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, ইরফান আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার তিন সন্তান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে ইরফান তাকে মারধর করেন এবং টাকা ফেরত পেতে হলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও বোরকা পরার শর্ত দেন।
পরে উপসর্ন কানপুর পুলিশের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে অনওয়ারগঞ্জ থানায় মামলা করা হয় এবং ইরফানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বিয়ের নথি, অর্থ লেনদেনের তথ্য এবং ধর্মান্তরের চাপ দেওয়ার অভিযোগ তদন্ত করছে।