শেখ হাসিনার সরাসরি নিয়োগে দুই ছাত্রলীগ নেতা ও ছাত্রলীগ কোটার দুই পুলিশ এডিসি এখনো কীভাবে চাকরিতে বহাল থাকে?
১. প্রথম ব্যক্তি মো. এনামুল হক মিঠু হলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি তেজগাঁও বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি), যিনি ৩০তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মাধ্যমে বাহিনীতে যোগদান করেন।
২. তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০৬-২০০৭ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
৩. ক্ষমতার অপব্যবহার ও রাজনৈতিক দমন-পীড়নের জন্য সমালোচিত সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতার স্থায়ী বাসস্থান ও নিজ বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলার মোশাররফপুর গ্রামে।
৪.২০২৪ এর পটপরিবর্তনের পর তাকে ঢাকার মূল মাঠপর্যায়ের কমান্ড থেকে সরিয়ে পিরোজপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পিরোজপুর পুলিশ লাইন্সের অফিশিয়াল কোয়ার্টারে থাকছেন।
৫. ৩১তম বিসিএস ক্যাডারের বিতর্কিত কর্মকর্তা ও সাবেক ডিএমপি এডিসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ছাত্রজীবনে (২০১০-২০১৪) ঢাবির স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রলীগের সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন,বর্তমানে তিনিও ঢাকার বাইরে একটি ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সরকারি আবাসনে বহাল তবিয়তে চাকরিতে আছেন।
৬.যাঁর নিজ বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার উয়াইল গ্রামে।
৭. পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ডিএমপির বিমানবন্দর জোনের এডিসি হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে আসা শত শত কেজি সোনা ও মূল চোরাচালানের line নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ২০২৩ সালে কাস্টমসের গুদাম থেকে বহুল আলোচিত ৫৫ কেজি সোনা গায়েবের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হয়েও এই বিশাল হরিলুটের মূল হোতাদের আড়াল করে নিজে বিপুল অবৈধ অর্থের ভাগ নিয়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
৮. মো. এনামুল হক মিঠু ও মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম—এই দুই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন, ভুয়া মামলা বাণিজ্য এবং বদলি ও পোস্টিং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
৯. ফ্যাসিবাদের দোসর এই দুই বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা এখনও কোনো অদৃশ্য ইশারায় নন-কমান্ড বা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বহাল তবিয়তে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, যা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনার সাথে এক চরম উপহাস।
১০. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি যে মো. এনামুল হক মিঠু এবং মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলামকে অনতিবিলম্বে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা চাকরিচ্যুত করে বিগত দিনের নির্যাতন ও সোনা চোরাচালানের দুর্নীতির দায়ে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার করা হোক।