জনতার পত্রিকা :
দীর্ঘ ৪ বছর পর গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে ৩ দিনব্যাপী উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে কুষ্টিয়ার গড়াই নদ। দুপুর গড়াতেই নদীর দুই পাড়ে নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী কয়েক হাজার দর্শনার্থী জড়ো হন। এ সময় নদীর দুই পাড় পরিণত হয় মিলনমেলায়।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়। এসময় ৭টি সুসজ্জিত নৌকার অংশগ্রহণে বৈঠার তালে তালে মুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদ।
আয়োজক কমিটির সভাপতি ইমরান হোসেন ইউনুসের সভাপতিত্বে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

উদ্বোধনী দিনে কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন জেলার সুসজ্জিত নৌকা নিয়ে ৭টি দল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। হাজার হাজার দর্শক নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে নৌকা বাইচ উপভোগ করেন।
দীর্ঘ ৪ বছর বিরতির পর শুক্রবার দুপুরের পর মাঝিমাল্লাদের ‘হেইয়ো রে হেইয়ো’ ধ্বনি আর দাঁড়ের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে ওঠে গড়াই নদীর দুই পাড়। সর্বশেষ ২০২২ সালে এ নদে নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও নৌকা বাইচের আয়োজন ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। দল বেঁধে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন তারা। এ আয়োজনে অংশ নিতে পেরে খুশি মাঝিমাল্লারাও।
ঐতিহ্যবাহী এ নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর পাড়ে বসেছে গ্রামীণ মেলা। বিভিন্ন ধরনের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণ ও মনোরঞ্জনের জন্য নৌকার মাঝিরা জারিগান পরিবেশন করেন।

আয়োজকরা জানান, মাদকসহ নানা ধরনের নৈতিক অবক্ষয় থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতেই গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া ছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার বাইচের নৌকা এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।
আগামী রোববার সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ প্রতিযোগিতা শেষ হবে। অংশগ্রহণকারীদের জন্য পুরস্কার হিসেবে রয়েছে মোটরসাইকেল, ফ্রিজ ও টেলিভিশন।