জনতার পত্রিকা :
:
কুষ্টিয়ায় গোরস্থান থেকে ‘পীরের লাশ তুলে দরবারে দাফন করা নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকায় । এর আগে স্থানীয় কবরস্থানে কথিত পীর নিহত আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে দাফন করা হয়েছিল। গত শুক্রবার দিবাগত গড়ভীর রাতে কে বা কারা কবর খুঁড়ে লাশ তুলে নিয়ে ‘শামীম বাবার দরবার’ প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করেন। এ নিয়ে মৃত্যুর পর তার লাশ তিনবার ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দাফন করা হয়। খবর পেয়ে গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা তদন্ত শুরু করেন। এ সময় প্রাথমিকভাবে কবর স্থানান্তরের আলামত পাওয়া যায়। দরবার প্রাঙ্গণের নতুন কবরে পলিথিনের প্যাকেটে মোড়ানো লাশ দেখতে পান তারা।
তবে সেটি শামীমের মরদেহ কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে প্রথমে দাফন করা কবরের কিছু অংশ খুঁড়ে সেখানে মরদেহ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করা হয়। পরে শামীমের মরদেহ দরবার প্রাঙ্গণে সরিয়ে নেওয়া ও সেখানে দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর শনিবার দুপুরে পুলিশি পাহারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দরবার এলাকার নতুন কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তা আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়। মএ সময় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল । মরদেহ কারা সরিয়ে নিয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শামীমের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, তার ভক্তদের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে আমরা কবরস্থানে গিয়ে মাটি খোঁড়া ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আলামত দেখতে পাই। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে নতুন একটি কবর খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানাই। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, দুটি কবরের আলামত দেখে মনে হচ্ছে শুক্রবার রাতেই লাশ উত্তোলন ও নতুন কবরে দাফনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পাশাপাশি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, অনুমতি ছাড়া কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা বেআইনি। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কোনো ভাবেই মরদেহ উত্তোলন করে অন্যত্র পুনরায় দাফন করা যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর দরবার প্রাঙ্গণ থেকে উত্তোলন করা মরদেহটি আগের কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামীমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই দিনই তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ভাই বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় নাম থাকা চার আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
নিহত আবদুর রহমান শামীম নিজেকে ‘কালান্দার বাবা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং তিনি সুরেশ্বরী দরবারের অনুসারী ছিলেন। ফিলিপনগরের দারোগার মোড় এলাকায় নিজস্ব দরবার শরিফ গড়ে তুলে তিনি সুফিবাদী আধ্যাত্মিক চর্চা চালিয়ে আসছিলেন।