প্রতিবেদন প্রকাশ: ০১ অক্টবার ২০২৬, সময়ঃ ১২:১১
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় তার আরও ছয় সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে।
gnewsদৈনিক ইত্তেফাকের সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে মামলাটি করেন লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার প্রবাসী আমির হোসেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিষয়টি জানাজানি হয়।
বাদীর আইনজীবী কবির জিলান বলেন, আদালত বাদীর বক্তব্য গ্রহণ করে মামলাটি তদন্তের জন্য সাতকানিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন মো. আরিফ উদ্দীন, শওকত আলী, মো. আরমান উদ্দিন, মো. আদিল, মো. আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন।
মামলার আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্স এলাকায় তার চারতলা ভবন রয়েছে। ভবনের নিচতলায় দোকান এবং অন্যান্য অংশে ভাড়াটেরা থাকেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরার পর কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে আরিফ উদ্দীনসহ আসামিরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টার দিকে আসামিরা মার্কেটের নিচতলায় ভাড়াটে ওবায়দুলের দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দোকান থেকে স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেসসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যান। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় দোকানের ক্যাশ টেবিলসহ ভেতরে থাকা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়। পরে ভাঙা অংশে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
বাদীর আরও অভিযোগ, ভবনের অন্য ভাড়াটেদেরও আসামিদের মাধ্যমে বাসাভাড়া দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
মামলায় বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে আসামিরা বাদীর মার্কেটে বৈঠক করেন। সেখানে আরিফ উদ্দীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন। এ সময় আরমান উদ্দিন মুঠোফোনে বাদীকে তাদের কথামতো চলার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আসামিরা তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
বাদী আমির হোসেন বলেন, চাঁদা দাবির ঘটনায় থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিনের মুঠোফোনে কল করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। পরে তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।