চাঁপাই ও রাজশাহীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত


রাজশাহী প্রতিনিধি : 

 

 

দেশের উত্তরের দ্ইু জেলা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চল তলিয়ে গেছে। রাজশাহীতে কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে রাখায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে পানি বেড়ে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। খবর রাজশাহী ব্যুরো ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধির

 

রাজশাহী: উজান থেকে নেমে আসা ঢলে প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল। আরও কয়েক দিন পানি বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তারা জানিয়েছে, রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। গতকাল শুক্রবার বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৮২ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় পদ্মার পানি।

রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, পানি বাড়লেও শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে ঝুঁকি নেই। তবে সতর্ক অবস্থানে আছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঝুঁকি দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পদ্মার দক্ষিণের চরাঞ্চলে পানি উঠছে।

 

নদীর পানি বর্তমান হারে বাড়তে থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আরও চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ইতোমধ্যে পদ্মার তীরবর্তী বিভিন্ন চর ও নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে পদ্মায় পানি বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিদিনই নদীর পানি বাড়ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতভিটা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা ও চারঘাটের পদ্মাতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জসহ নদীসংলগ্ন চরাঞ্চল রয়েছে ঝুঁকিতে। এসব এলাকার অনেক মানুষ কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও নদীনির্ভর বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত। পানি বাড়তে থাকলে কৃষিজমি ও চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়তে পারেন তারা।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, চর খিদিরপুর ও মিডল চরে পানি ওঠায় ২০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে প্রায় ২৫ ধরনের পণ্য রয়েছে। বন্যাকবলিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চর, মাঝারচরসহ তিনটি স্থানে মেডিক্যাল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। এসব ক্যাম্পে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আপাতত ভ্রাম্যমাণভাবে একটি জায়গায় আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সেখানে গবাদিপশু রাখারও ব্যবস্থা রয়েছে। তবে চর খিদিরপুরের মানুষের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় ১০ ফুট উঁচু দুটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের সব গেট খুলে রাখায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে পানির স্তর বাড়ছে দ্রুত। গত ৫ দিনে পদ্মা নদীতে পানি বেড়েছে ৬৫ সেন্টিমিটার। এতে জেলার সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ। বিশেষ করে সদর উপজেলার নারায়ণপুর, শাহজাহানপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ও উজিরপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশকিছু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৩ হাজার পরিবার।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। প্লাবিত এলাকায় গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। অনেকেই ঘরবাড়ি ও ফসলের পাশাপাশি গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুটি উপজেলায় এখন পর্যন্ত পানিতে প্লাবিত হয়ে বন্ধ রয়েছে ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চবিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব জানান, গতকাল শুক্রবার পদ্মায় ৭ সেন্টিমিটার এবং মহানন্দা ১০ ও পুনর্ভবা নদীতে ১৩ সেন্টিমিটার করে পানি বেড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে পানি বাড়লেও, জেলার তিন নদীর কোনোটিরই বিপদসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৯ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কার কথা নাকচ করলেও নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কানাডার সাসকাচোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফারাক্কা ব্যারাজের ১০৯টি গেটই খোলা রয়েছে। ব্যারাজ দিয়ে মোট প্রায় ১৬ লাখ কিউসেক পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কিউসেক পানি ফিডার খাল দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ফারাক্কা দিয়ে বাড়তি পানির প্রবাহ একই মাত্রায় বাংলাদেশে প্রবেশ করায় পদ্মা নদীর পানিও দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে আরও চরাঞ্চল ও বসতবাড়িতে পানি ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে।


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।