প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বার ২০২৬, সময়ঃ ১২:১৪
ঢাকা অফিস :
একে একে মুখ খুলছেন চাক্ষুষ সাক্ষীরা। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণও শেষের দিকে। ঠিক তখনই বদলে গেল মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের ট্রাইব্যুনালে আসার দৃশ্য। এতদিন স্বাভাবিকভাবে আনা হলেও এখন হাতে উঠেছে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট আর শরীরেও পরানো হচ্ছে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট। তবে এর পেছনে শুধু নিরাপত্তাজনিত কারণ নয়, রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য। সাক্ষীদের বয়ানে সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পাশাপাশি নতুন করে নিরাপত্তা-উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি সূত্র।
সূত্রটির দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে ব্রাশফায়ার করে পালানোর পরিকল্পনা ছিল জিয়াউলের।
তথ্য বলছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন জিয়াউল আহসান। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। এ মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া থেকে শুরু করে জিয়াউলের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসও সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডের শিকার আলকাছ মল্লিকের ভাই আব্বাস মল্লিকও ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেছেন ঘটনার বীভৎস বিবরণ। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ১০ জন। তাদের জবানবন্দিতে যেন একে একে খুলছে গুম-খুনের অন্ধকার অধ্যায়ের পাতা। প্রতিটি সাক্ষ্যের সঙ্গে সামনে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, শতাধিক গুম-খুনের এ মামলায় এরই মধ্যে জবানবন্দি দিয়েছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। বিশেষত দেহরক্ষী, র্যাবের সিওসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দির পর জিয়াউলকে ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। স্যাবোটাজ বা নাশকতার উদ্দেশ্যে সম্ভাব্য কোনো পরিকল্পনা নিয়েও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য পেয়েছে বলে জানা গেছে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।