প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বার ২০২৬, সময়ঃ ০৮:৩৯
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক ক্ষুদ্র খামারির কাছ থেকে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর রামদাস হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই সুমন কবির মৃধাকে ক্লোজ করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত একটি চুরির মামলা থেকে। বাঁশখালীর চন্দ্রপুর গ্রামের নুরুল আলমের ‘জামশেদ এক্সপ্রেস ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো ফার্মে’ গত ৭ জুলাই রাতে চুরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, খামার থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা, পাঁচটি দেশি মুরগি এবং প্রায় ৯০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় নুরুল আলম ২৬ জুলাই আদালতে মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার পান এসআই সুমন কবির মৃধা।
খামারি নুরুল আলমের অভিযোগ, তদন্তের শুরুতে নাশতা ও গাড়িভাড়ার কথা বলে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে ২৬ আগস্ট খামারে গিয়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি ৩ হাজার টাকা দেন বলেও অভিযোগ করেছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, টাকা না দিলে মামলার রিপোর্ট তার পক্ষে দেওয়া হবে না বলে তাকে জানানো হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই সুমন কবির মৃধা ‘মামলার রিপোর্ট দিতে কিছু খরচ আছে’ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি বিষয়টি সমাধানের কথা বলেও যোগাযোগ করেন।
এরপরই বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের নির্দেশে এসআই সুমন কবির মৃধাকে বাঁশখালী থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (আনোয়ারা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগের তদন্ত হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তথ্যসূত্র গণকণ্ঠ
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, ক্লোজ করা মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে যাওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই যায়, একজন ক্ষুদ্র খামারি যদি নিজের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার জন্যও টাকা দেওয়ার চাপে পড়েন, তাহলে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ওপর আস্থা কোথায় থাকবে?
আইনের কাছে ন্যায়বিচার পাওয়ার কথা সবার। সেখানে তদন্ত প্রতিবেদন যদি টাকার বিনিময়ে পাওয়ার অভিযোগ ওঠে, সেটি শুধু একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, পুরো বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থার জন্যও বড় প্রশ্ন।
তদন্ত হোক নিরপেক্ষভাবে। অভিযোগ সত্য হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও পরিষ্কারভাবে জানানো হোক।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।