প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬, সময়ঃ ১১:৩১
স্পোর্টস ডেস্কবিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দেয় লিওনেল মেসির ম্যাচপূর্ব একটি বক্তব্য। মাঠে নামার আগে অধিনায়কের বলা ‘সব ভুলে যাও’ কথাটি ফাঁস হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
অনেকে দাবি করতে শুরু করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে নাকি জিততে দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, গুজব থামাতে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে বাধ্য হন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যরাও।
সবার আগে প্রতিক্রিয়া জানান মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের বাবা রবার্তো দে পল। এক বেতার সাক্ষাৎকারে তিনি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রের সব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি বলেন, ‘আমি এসব বিশ্বাস করি না। এগুলোর বেশিরভাগই বানানো গল্প। একজন ফুটবলার বছরের পর বছর পরিশ্রম করবে, তারপর কেউ এসে বলবে তোমাকে হারতে হবে—এটা আমি কখনোই বিশ্বাস করি না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথার অংশবিশেষ তুলে ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
এদিকে আর্জেন্টিনার আরেক মিডফিল্ডার আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বাবা এবং সাবেক ফুটবলার কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টারও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অনেকেই সহজভাবে মেনে নিতে পারেন না যে প্রতিপক্ষ দল কখনো কখনো ভালো খেলেই জিতে যায়। তাই তারা পরাজয়ের পেছনে অযথা গোপন কারণ খুঁজতে থাকেন।
তিনি জানান, ফাইনালের পর তিনি নিজেও ছেলেকে জিজ্ঞেস করেছিলেন ড্রেসিংরুমে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না। জবাবে আলেক্সিস স্পষ্ট করে জানান, মেসির ‘সব ভুলে যাও’ বার্তার সঙ্গে মাঠের বাইরের কোনো বিষয়ের সম্পর্ক ছিল না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধিনায়ক শুধু খেলোয়াড়দের মানসিক চাপ ঝেড়ে ফেলে নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল খেলতে বলেছিলেন। বলের দখল ধরে রাখা, ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়া এবং অযথা দীর্ঘ বল না খেলাই ছিল সেই বার্তার মূল উদ্দেশ্য।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পর্কে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
স্কালোনি বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখি না। আপনারা যা বলছেন, সে সম্পর্কে আমার কোনো ধারণাই নেই।’ পরে একই প্রশ্ন বারবার করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন প্রশ্ন করছেন, সত্যিই আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।’
এদিকে বিশ্বকাপ হারার পর ছেলে রদ্রিগো দে পলের মানসিক অবস্থা নিয়েও কথা বলেন তার বাবা। তিনি জানান, ফাইনালের পর ইচ্ছে করেই ছেলেকে কিছু সময় একা থাকতে দিয়েছিলেন, যাতে সে নিজের মতো করে হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারে।
জাতীয় দলে রদ্রিগো দে পলের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি সতর্ক মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, দেশের জার্সির জন্য তার ছেলে সবসময় শতভাগ উজাড় করে দেয়। তাই এখনই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
অন্যদিকে রদ্রিগো দে পল নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন।
তিনি লেখেন, ‘অনেক মানুষ আমাদের এই পতনের অপেক্ষায় ছিল। পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তারা কোনো ভিত্তি ছাড়াই ষড়যন্ত্রের গল্প ছড়িয়েছে, যেন অন্যের কষ্টে নিজেরা স্বস্তি খুঁজে পায়।’
শেষে তিনি বলেন, শিরোপা দেশে এনে দিতে না পারার কষ্ট থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গর্বিত।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।