প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, সময়ঃ ০২:৩৯
জামায়াতে ইসলামীর ব্যাপারে আমার প্রথম আপত্তি:
‘ইসলামী দল’ কিন্তু নেতৃত্বে আলেম নেই, সন্তানদের গন্তব্য পাশ্চাত্য!
এরা সাধারণ মানুষকে দ্বীন কায়েমের আবেগ দেখিয়ে দলে টানে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, এদের মূল নীতিনির্ধারণী বা শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো প্রকৃত ও বরেণ্য আলেম নেই। দল চালায় মূলত কর্পোরেট ধাঁচের কিছু চতুর রাজনীতিবিদ।
সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা হলো, যে পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে এরা দিনরাত গালমন্দ করে, নিজেদের সন্তানদের কিন্তু তারা আলেম বানাতে মাদ্রাসায় পাঠায় না। নেতাদের সন্তানেরা পড়ে দেশের সবচেয়ে দামি ইংরেজি মাধ্যমে এবং উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমায় সেই ইউরোপ-আমেরিকায়, যাদের এরা ‘ইসলামের শত্রু’ বলে গালি দেয়।
যেমন:
গোলাম আজম (সাবেক আমির): পশ্চিমা শিক্ষা ও সংস্কৃতির কট্টর সমালোচক ও ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার প্রবক্তা। অথচ উনার ছেলেদের প্রায় সবাই যুক্তরাজ্য (UK) সহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এদের কেউ প্রচলিত ধারার মাদ্রাসায় পড়েননি।
মতিউর রহমান নিজামী (সাবেক শীর্ষ নেতা): সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আজীবন কড়া বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু উনার সন্তানরা পশ্চিমা এবং আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার এক মেয়ে ঢাকার নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে পড়াশোনা করে পরবর্তীতে বিদেশে থিতু হয়েছেন।
দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (সাবেক নায়েবে আমির): উনার ওয়াজ বা বয়ানের মূল ভিত্তিই ছিল পশ্চিমা সংস্কৃতির ধ্বংসাত্মক রূপের সমালোচনা করা। অথচ উনার ছেলেরা আধুনিক ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার নাতি-নাতনিরা দেশের নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।
বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: বর্তমানের শীর্ষ ও সমমনা দলগুলোর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার অধিকাংশ নেতার সন্তানরা মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ, এমবিএ বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।
জামাতি ইসলামের অতীতের দিকে তাকালে যা পাওয়া যায়। দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী (সাবেক নায়েবে আমির): উনার ওয়াজ বা বয়ানের মূল ভিত্তিই ছিল পশ্চিমা সংস্কৃতির ধ্বংসাত্মক রূপের সমালোচনা করা। অথচ উনার ছেলেরা আধুনিক ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উনার নাতি-নাতনিরা দেশের নামী ইংলিশ মিডিয়ামে পড়েছেন এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য গেছেন।
বর্তমান শীর্ষ নেতৃবৃন্দ: বর্তমানের শীর্ষ ও সমমনা দলগুলোর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার অধিকাংশ নেতার সন্তানরা মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ, এমবিএ বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন।
এই দ্বিচারিতা থেকে আমার উপলব্ধি: এ কেমন ইনসাফ?
সাধারণ মানুষের সন্তানরা রাজপথে আবেগ বিলিয়ে দেবে, হামলা-মামলার শিকার হয়ে জীবন ধ্বংস করবে, আর নেতাদের সন্তানেরা পাশ্চাত্যের বিলাসবহুল সেক্যুলার জীবন উপভোগ করবে—এ কেমন ইসলামী ইনসাফ?
যে শিক্ষা ব্যবস্থা নেতাদের নিজেদের সন্তানদের জন্য "উত্তম ও ক্যারিয়ার গড়ার মাধ্যম", সেই একই শিক্ষা ও সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের জন্য কেন "জাহেলিয়াত" হবে?
মূল কথা হচ্ছে ধর্মের ফতোয়া এবং দ্বীন কায়েমের এই আবেগ এদের কাছে কেবলই সাধারণ মানুষকে সম্মোহিত করে রাখার একটি হাতিয়ার। মূল লক্ষ্য ক্ষমতার অংশীদার হওয়া এবং নিজেদের আখের গোছানো। এদের এই মুখোশটা চিনে রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।
লিখেছেন জমাতের সাবেক রুকন জাবিহুল্লাহ ইসমাইল