প্রতিবেদন প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, সময়ঃ ১১:৪৬
মো. মুনজুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়া হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং পরিচালনা পর্ষদ (ম্যানেজিং কমিটি) গঠনকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিতে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে উপেক্ষা করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ওবায়দুল ইসলাম। একই সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ডা. মো. আতিয়ার রহমান ২৯ অক্টোবর ২০২৫ সালে অবসরে যাওয়ার পর নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় জ্যেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে ডা. মো. ওবায়দুল ইসলাম ওই দায়িত্ব পাওয়ার প্রত্যাশা করলেও পরবর্তীতে অপেক্ষাকৃত জুনিয়র শিক্ষক ডা. আব্দুর রহিমকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিধিমালা অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
অভিযোগকারীর দাবি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ডা. আব্দুর রহিম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানির কুষ্টিয়া অঞ্চলের মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ (এমআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একই সময়ে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ব্যক্তি দুটি প্রতিষ্ঠানে একই সময়ে দায়িত্ব পালন কিভাবে করেছেন —এ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে।
কলেজ-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির ভাষ্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রচলিত আইন ও বিধিমালার যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের মতে, নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হলে তা শুধু শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষই বাড়ায় না, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও সুনামের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে পরিচালনা পর্ষদ গঠন নিয়েও একাধিক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পরিচালনা পর্ষদ গঠনের বিষয়ে জাতীয় বা স্থানীয় কোনো পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়ে শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন, ২০২৩-এর ৮(১)(সি) ধারা অনুযায়ী শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য ১ ও ২ জুলাই ২০২৬ মনোনয়নপত্র বিক্রির সময় নির্ধারণ করা হলেও অভিভাবক প্রতিনিধি পদের জন্য মাত্র দুটি মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওই দুটি ফর্ম পূর্ববর্তী পরিচালনা পর্ষদের দুই অভিভাবক প্রতিনিধির কাছেই বিক্রি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং অপরজন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কলেজে সাত শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত থাকলেও অধিকাংশ অভিভাবক নির্বাচন সম্পর্কে কোনো ধরনের তথ্য পাননি। ফলে একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ থেকে অভিভাবকরা বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযোগকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।