প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৬, সময়ঃ ০৫:০২
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ারমিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈষিতা আক্তারের বিরুদ্ধে সেবা গ্রহীতাদের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরণ, কৃষি জমিতে মাটি কেটে পুকুর করা এবং মিস কেসে মাসের পর মাস ঘোরানো, ঘুষ -দুর্নীতির সহ বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীসূত্র জানিয়েছে, জমিজমা সংক্রান্ত কেউ মিস কেস করলে তাদেরকে বিভিন্ন কথা বলে কয়েক মাস যাবত সেবা না দিয়ে ফিরিয়েদেন, এমনও ঘটনা রয়েছে সেবা গ্রহীতা এসিল্যান্ড ঈষিতা আক্তারের সাথে সাক্ষাৎ করলে তাদেরকে অশালীন ভাষায় বিভিন্ন গালিগাল দেন। বাধ্য হয়ে সেবা নিতে আসা প্রান্তিক ওই মানুষগুলো ভয়েআর তার সাথে সাক্ষাৎ করার সাহস পায় না। অন্যদিকে বৈধ দলিল ও খারিজ পর্চাথাকার পরও জমির দখল বুঝিয়ে পাওয়ার জন্য উক্ত অফিসে নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করার কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও তাদেরকেও সেবা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে এবং শিকার হতে হয় তার দুর্ব্যবহারের। যেটি আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ বিধি ৩(১) ও৩(২) ভঙ্গের শামিল।মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্রিজ হতে সাইফোন ব্রিজের জলাশয়ের দুই পাড়ে শত শত বিঘাকৃষি জমিতে মাটি কেটে পুকুর তৈরি ও ইট ভাটায়মাটি উত্তোলন করা চলছে এবং বারুইপাড়া ইউনিয়নের আমকাঠালিয়ায় কয়েক বিঘা জমিতে মাটি কেটে পুকুর বানানো হচ্ছে এসব বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈষিতা আক্তার কে জানানো হলেতিনি কোন আইনগত ব্যবস্থা নেননা, যা কৃষি জমিসুরক্ষা ব্যবহার আইন ২০১৬ ধারার ৫ ও ৭পরিপন্থী।
তথ্যানুসন্ধানেজানা যায়, মিরপুর উপজেলার পার্শ্ববর্তী সুলতানপুর মহল্লার চঞ্চল নামের এক যুবক অলিখিতভাবেসহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈষিতা আক্তার নিয়োগ দিয়ে তার পারিবারিক ও দাপ্তরিক কাজকরাচ্ছেন, এ সুযোগকে কাজেলাগিয়ে চঞ্চল এলাকার বিভিন্ন ভুক্তভোগী মানুষের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, পাশাপাশি সরকারি দপ্তরের গোপনীয় তথ্য কতিপয় ব্যক্তির কাছে জানিয়ে দিচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসের মাঝামাঝিতে জনৈক ব্যক্তির ভুয়া দলিল ও পর্চার মিউটেশনকরিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা চুক্তি করে। পরবর্তীতে উক্ত অফিসের সার্ভেয়ার বিষয়টি কর্মকর্তাকে জানালে মিউটেশনটি বাতিল হয়ে যায়।
তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান'র সাথে মুঠোফোনেআলাপ করলে তিনি জানান, অভিযোগের বিষয়গুলো ইতিপূর্বে শুনিনি তবে আমি একটা তদন্ত কমিটি করে দেব অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে, এসব ব্যাপারে মিরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঈষিতা আক্তারের সাথে আলাপ করার জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়ার পরও তিনি কলটি রিসিভ করেননি।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।