প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, সময়ঃ ১০:২৮
আমিন হাসান, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ায় ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অটোচালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সাজ্জাদ একটি অটোরিকশা আটক করে সিট রেখে দেন এবং প্রায় একদিন পর টাকা নেওয়ার পর সিট ফেরত দেওয়া হয় ইমরান নামের এক মিডিয়ার মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী অটোরিকশা চালক সুনাতন অভিযোগ করে বলেন, গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার বেলা বারোটার সময় প্রতিদিনের মতোই নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের জন্য আমার অটোরিকশাটি নিয়ে কুষ্টিয়া ট্রাফিক অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাফিক কর্মকর্তা সাজ্জাতের পায়ে চাকার টাস লাগে,পরে আমার অটোটা নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে রাখা হয়। আমি অনেকক্ষণ ধরে তার পা পর্যন্ত ধরেছি যে আমার ভুল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করে দিন, তবুও তিনি আমার উপর চড়াও হয়ে অনেক ধমকাতে থাকে পরবর্তীতে আমার অটোর চাবি নিতে গেলে আমি অনেক আকুতি মিনতি করি কিন্তু আমার কথা না শুনে আমার ইজি বাইকের সিট গুলো খুলে নিয়ে যান।
দীর্ঘ সময় যানবাহনটি আটকে রাখার কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে আমি সিট না নিয়ে ওইভাবেই অটো নিয়ে বাড়িতে চলে আসি। পরের দিন (২৬ জুন) শুক্রবার আমার সিটগুলো নিতে গেলে ইমরান নামের এক লোক স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছে টাকা লাগবে লোকটি পাবলিক বলে আমি বিশ্বাস করিনা পরবর্তীতে ট্রাফিক কর্মকর্তা সাজ্জাদের সাথে ফোনে কথা হওয়ার রেকর্ডিং আমাকে শোনালে আমি বুঝতে পারি এই লোকটি ইমরানের মাধ্যমে টাকা নিবে, না হলে আমি সিট পাবো না তখন অসহায়ের মত উপায় না পেয়ে ৭শত টাকা দিয়ে আমি সিট নিয়ে আসি।
এ ঘটনায় স্থানীয় অটোরিকশা চালকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে যানবাহন আটক করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। এছাড়াও আরো বলেন, মাঝে মাঝে ৩০ টা ৪০ টা অটো আটক করে এক হাজার টাকার সিলিপ হাতে ধরিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। যাদের লাইসেন্স আছে তাদেরকেও আটক করছে যাদের লাইসেন্স নাই তাদেরকেও আটক করছে। তবে এমন চলতে থাকলে একসময় বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে নামতে বাধ্য হবেন বলে ধারনা পাওয়া গিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত টিআই সাজ্জাদের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবারে অটো আটক করতে গেলে আমার পায়ে ধাক্কা লাগে, পরে আমি চাবি কেরে নিতে গেলে চাবি দিতে চাইনি এর জন্য আমি সিট খুলে রেখে দিয়েছিলাম। পরের দিন শুক্রবারে এসে ইমরানের কাছে থেকে সিট নিয়ে গিয়েছে। টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন,টাকা নেয়ার বিষয়টা তো আমি জানিনা আমি কথা বলে দেখছি। পরবর্তীতে টিআই সাজ্জাদের নাম ভাঙিয়ে ইমরান নামের লোকটি টাকা নিয়েছে কিনা এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদককে জানাইনি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। সুত্র: আজকের আওয়াজ