প্রতিবেদন প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০৫:২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চললেও বিশ্ব জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে চীনের ওপর। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ব্যবহারকারী দেশটি যুদ্ধকালীন সময়ে আমদানি কমিয়ে, বিপুল মজুত ব্যবহার করে এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
আজ মঙ্গলবার মার্কিন বার্তাসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
ইরানের যুদ্ধের কারণে প্রতিদিন এক কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল সরবরাহ ব্যাহত হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রত্যাশিত মাত্রায় মূল্যবৃদ্ধি হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে চীন।
যুদ্ধের শুরুতে অনেক বিশেষজ্ঞ ধারণা করেছিলেন, চলতি বছরে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। কিন্তু সরবরাহে ব্যাপক ঘাটতি সত্ত্বেও তেলের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৮ ডলারের নিচে নেমে আসে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার আগে দাম ৭০ ডলারের নিচে ছিল এবং মে মাসের শুরুতে তা চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে পৌঁছেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে, যা জাপানের মোট তেল চাহিদার প্রায় সমান। এই পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
যুদ্ধের আগে রাশিয়া ও ইরান থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে চীন বিপুল পরিমাণ মজুত গড়ে তোলে। বর্তমানে দেশটির বাণিজ্যিক ও কৌশলগত মজুতে একশ কোটির বেশি ব্যারেল তেল রয়েছে। মে মাস থেকে সেই মজুত ব্যবহার শুরু করেছে বেইজিং।
এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। ফলে দেশটির শোধনাগারগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কম তেল কিনছে।
একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দ্রুত বিস্তারও তেলের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে চীনে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটি নতুন যাত্রীবাহী গাড়ির মধ্যে একটি বিকল্প জ্বালানিচালিত। গত বছর শুধুমাত্র এই খাতেই প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের ব্যবহার কমেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারের জন্য এক ধরনের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু মজুত তেল ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরে দৈনিক প্রায় ৪৭ লাখ ব্যারেল তেল অতিরিক্ত সরবরাহ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে গেলে আটকে থাকা প্রায় ১০ কোটি ব্যারেল তেল আবার বাজারে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরানও দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারে।
তবে এতে নতুন এক প্রশ্ন সামনে এসেছে যে চীন কি আবার বিপুল পরিমাণ তেল কিনবে?
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।