প্রতিবেদন প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, সময়ঃ ০৩:৩০
শামসুল আলম স্বপন, কুষ্টিয়া :
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ৬ জন নারী- পুরুষ ও শিশুকে বার বার পুশ ইনের চেষ্টা করেছে । কিন্তু তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি ৪৭) ও এলাকাবাসী। এই ঘটনার পর থেকে বিজিবির সাথে সীমান্ত পাহারায় দিচ্ছে স্থানীয় জনগণ। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে ।
ভারতের পশ্চিম বঙ্গের সাথে মেহেরপুর জেলার ৩৬ কিলোমিটার ও কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ৪৬ কিলোমিটার মোট ৮২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে ।
স্থানীয় জনগণ জানান ভারতের রাজনীতি পরিবর্তনের পর থেকে সীমান্ত পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবস্থানরত কিছু মানুষকে বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছে বিএসএফ। ৬ জুন শনিবার ভোরে বিএসএফ মেহেরপুর সীমান্ত দিয়ে ৬জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য জোর চেষ্টা করে । কিন্তু কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবি’র কঠোর অবস্থানে সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ’র এ ধরনের চেষ্টা সফল হয়নি। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিজিবি। স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর হয়েছে। এছাড়াও পুশ ইনের সাথে জড়িত কিছু দালালের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান সীমান্তে পুশ ইন ঠেকাতে ও নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন বিওপিতে অতিরিক্ত লোকবল মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল দৈনিক আমাদের সময়কে জানান, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত এলাকা দিয়ে একাধিকবার পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হয়েছে। শনিার ভোরে মেহেরপুরের গাংনীর তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসী। তাদের শূন্য রেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও গত ৪-৫দিন আগে দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টা করেছিল বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। কিছু দালাল চক্র এর সাথে জড়িত আছে। তাদের কিছুজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকেরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা বিজিবির সঙ্গে টহল কার্যক্রমে সহযোগিতা করছেন। এ জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
অধিনায়ক আরো বলেন, মেহেরপুর সীমান্তে কোম্পানী পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে । আমরা আমাদেও সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছি।
সীমান্তে ২৪ ঘণ্টা টহল, মাইকিং ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সম্ভাব্য পুশ ইন পয়েন্টগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।