এমন অমানুষ আমাদের সমাজে দরকার নাই


জনতার পত্রিকা : 
 
সরকার কে অনুরোধ করবো উনার দুই ছেলে কে চাকুরী থেকে অবসরে পাঠিয়ে দিবেন।
এমন অমানুষ আমাদের সমাজে দরকার নাই। উনারা সমাজ কে ভাল কিছু দিতে পারেন না।
আর এই মেয়ের কথা কিছু বলতে ইচ্ছা করছে না। ও এই দুনিয়াতে বিচার পেয়ে যাবেন।
১৬৮ ঘণ্টা! দীর্ঘ সাত-সাতটি দিন। অসুস্থ এক বৃদ্ধা মায়ের খোঁজ নেয়নি কোনো সন্তান। একাকী, আবদ্ধ এক রুমে নিথর পড়েছিলেন ৭৩ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। শেষ পর্যন্ত লাশ পচে-গলে শরীর থেকে মাংস খসে পড়েছে বিছানায়।
অথচ এই বৃদ্ধার এক সন্তান বাংলাদেশ সরকারের একজন যুগ্মসচিব। টাকা আর দাপটওয়ালা একটা অধিদপ্তরের প্রধান। আরেক ছেলে দেশসেরা বিদ্যাপীঠ বুয়েটের শিক্ষক। মেয়ের জামাতাও পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। অর্থাৎ, সমাজে এরা সবাই নীতি-নৈতিকতা বিলানোর একেকজন ‘ইজারাদার’। মৃত বৃদ্ধার স্বামীও ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, যিনি বছর পাঁচেক আগে মারা গেছেন।
কী করুণ আর বীভৎস এক মৃত্যু! একজন মায়ের সন্তানেরা সমাজে কত নামী-দামী, সম্মানিত, পূজনীয় আর প্রভাবশালী। অথচ মায়ের শেষ মুহূর্তের আর্তনাদ পাশের রুমের দেয়াল ভেদ করে নিজের মেয়ের কানে পর্যন্তই পৌঁছায়নি। কেউ তার মুখে এক ফোঁটা জল দেয়নি, কেউ শেষ সময়ে কপালে হাত রেখে বলেনি "মা, আমি আছি তো।" তিল তিল করে মায়ের নিথর শরীরটা পচে গেল, গলিত মাংসের টুকরোগুলো বিছানায় খসে খসে পড়ল, আর পাশের ঘরেই দিব্যি তিন বেলা খেয়ে-দেয়ে বেঁচে রইল তার নিজের গর্ভজাত কন্যা! নাকে নাকি কোনো গন্ধই লাগেনি! এ কেমন পাথর-জমানো ঘ্রাণহীন অবশ জরায়ু? এ কেমন বিকৃত মস্তিষ্ক?
যুগ্মসচিব কিংবা বুয়েটের শিক্ষক- দুনিয়ার তাবৎ জ্ঞান, ক্ষমতা আর রাজকীয় পদবীর আড়ালে এরা আসলে একেকটা মুখোশধারী কঙ্কাল। এমনকি মায়ের পচা লাশের খবর পেয়ে শিক্ষক ছেলেটি কোনোমতে হাজির হলেও, ক্ষমতার চেয়ার আঁকড়ে থাকা অন্য সন্তানটির মায়ের গলিত মুখটা শেষবারের মতো দেখারও নাকি সময় হয়নি!
পুলিশ ধারণা করছে মেয়ের মানসিক সমস্যা থাকতে পারে; নইলে কীভাবে পাশের রুমে থাকা মায়ের খবর কেউ সাত দিনেও নেয় না? কিন্তু প্রশ্ন হলো- ছেলেগুলো কেন একটা বারও মায়ের খোঁজ নিল না?
নূরজাহান বেগমের এই চলে যাওয়া স্রেফ কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়; এটি আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের এক ঠাণ্ডা মাথার নির্মম হত্যাকাণ্ড। এই অবিশ্বাস্য ধৃষ্টতা আর অমানবিকতাকে কোনো অজুহাতেই ঢাকা দেওয়া যায় না। এই কুলাঙ্গার সন্তানদের আইনের আওতায় এনে এমন শাস্তি দেওয়া উচিত, যা সমাজে এক দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হয়ে থাকে।


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।