প্রবাসে থেকেই প্রধান শিক্ষকের পদ সামলাচ্ছেন কুষ্টিয়ার মনিরুল ইসলাম


 

 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মো. মুনজুরুল ইসলাম :

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তর মিরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়—একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা একসময় স্থানীয় শিক্ষার আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সেটিই যেন আজ নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক প্রশ্নবিদ্ধতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলামকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে বিস্ময়কর এক পরিস্থিতি। স্থানীয়দের দাবি—তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেও কাগজে-কলমে এখনো এই এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবেই বহাল রয়েছেন।

 

জানা যায়, ২০০০ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। শুরু থেকেই নানা  অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রভাব ও যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি তার অবস্থান ধরে রাখেন—এমনটাই অভিযোগ এলাকাবাসীর।

 

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। এরপর ২০২২ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশে ফিরে মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করে পুনরায় বিদেশে চলে যান। বর্তমানে তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নাগরিকত্বও গ্রহণ করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। অথচ অবাক করা বিষয়—এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরও তার নাম বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতা ও সরকারি নথিপত্রে বহাল রয়েছে।

 

অভিযোগ আরও গুরুতর—বিদেশে অবস্থান করেই তিনি নিয়মিতভাবে প্রধান শিক্ষক হিসেবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
একজন অভিভাবকের ভাষায়,“একজন ব্যক্তি বিদেশে থেকে কীভাবে একটি সরকারি বেতনভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক থাকেন—এটা শুধু অস্বাভাবিক নয়, পুরো ব্যবস্থার জন্য লজ্জাজনক।”
বর্তমানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ এনামুল হক, যিনি ৭ আগস্ট ২০২৪ সাল থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন। তবে মূল পদটি এখনো শূন্য ঘোষণা না হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতা কাটছে না।

 

উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৭ম গ্রেডে বেতন পান। প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে যা সর্বোচ্চ ৬৩ হাজার ৪১০ টাকায় উন্নীত হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব বোনাসসহ নানা সুবিধা। ফলে দীর্ঘ সময় বিদেশে থেকেও এসব সুবিধা ভোগের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


এমন বাস্তবতায় স্থানীয় সচেতন মহল দ্রæত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের সমস্যা নয়—পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এখন প্রশ্ন একটাই—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কবে নড়েচড়ে বসবে? আর কবে ফিরবে শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও আস্থার পরিবেশ এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে?


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।