অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০১:৫৩
ঢাকা অফিস :
অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় স্কুলছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলিকে (১৭) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তারের তথ্য জানাতে সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।
আগের দিন রবিবার সকালে বাগেরহাটের মান্ডা বাঁশখালী এলাকা থেকে র্যাব-৩ ও ৬-এর যৌথ অভিযানে মিলন মল্লিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মিলন মল্লিক (২৮) নিহত নিলির বাবা মো. সজীবের হোটেলের কর্মচারী ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, হোটেল কর্মচারী মিলন নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এতে সাড়া না দেওয়ায় এবং প্রতিবাদ করায় নিলির ওপর ক্ষিপ্ত হন মিলন। পরে তিনি নিলিকে হত্যা করেন। এ ঘটনার পর মিলন মল্লিক তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের মান্ডা বাঁশখালী এলাকায় পালিয়ে যান। তার বাবার নাম সেকেন্দার মল্লিক। বাগেরহাট থেকেই গতকাল সকালে তাকে র্যাবের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়।
মিলন মল্লিককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে তিনি বলেন, গত শনিবার বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে মিলন মল্লিক হোটেলমালিক সজীবের খিলগাঁও থানার বনশ্রীর এল-ব্লকের বাসায় প্রবেশ করেন। এ সময় বাসায় হোটেলমালিকের বড় মেয়ে শোভা আক্তার ও ছোট মেয়ে নিলি ছিল। বেলা ১টা ৪১ মিনিটে ওই বাসা থেকে বের হয়ে যান মিলন, একই সময় হোটেলমালিকের বড় মেয়ে শোভাও তার সঙ্গে বের হন। শোভা জিমে চলে যান।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, এরপর বেলা ২টা ২৫ মিনিটে মিলন পুনরায় একা ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করে ২টা ৪৫ মিনিটে বের হয়ে যান। এই সময়ের মধ্যেই নিলিকে হত্যা করা হয়।
ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি (মিলন) জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। ঘটনার আগের রাতেও খাবার দিতে গিয়ে একই প্রস্তাব দিলে নিলি তাকে বকাঝকা করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরদিন প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মিলন।
তিনি বলেন, ঘটনার দিন পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী নাইলনের দড়ি নিয়ে মিলন ভুক্তভোগীর বাসায় যান। একপর্যায়ে তার অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তিনি দড়ি দিয়ে নিলির গলা চেপে ধরেন। ভুক্তভোগী চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হওয়ার আশঙ্কায় রান্নাঘরে থাকা ধারালো বঁটি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর কিছু নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যান মিলন।
র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শোভা জিম থেকে ফিরে দেখেন, তার বোন বাসার ডাইনিং রুমের বেসিনের নিচে উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তিনি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এসে নিলিকে পাশের হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে গতকাল সকালে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর খিলগাঁও থানা-পুলিশ নিলির লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় নিলির বাবা মো. সজীব অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার পরেই র্যাব ও পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে দ্রুত অভিযান শুরু করে। র্যাব বাগেরহাট থেকে মিলনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আসামির কাছ থেকে ঘটনার দিন পরিহিত কালো প্যান্ট ও নীল রঙের গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি ও নাইলনের দড়ি উদ্ধার করে।
ফায়েজুল আরেফীন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সহযোগী রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।