অফিস ডেস্ক
প্রতিবেদন প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬, সময়ঃ ০৭:২৫
ঢাকা অফিস :
তফসিল ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই দলের বিদ্রোহীরা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন, নইলে দল সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চিত্র প্রদর্শনীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দলের মধ্যে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছে সেটা দল দেখছে। আমাদের মতো এত বড় দলে যোগ্য প্রার্থী প্রচুর। সেখানে অনেকেই দলের সিদ্ধান্ত মনে করেছে আর কি তাকে যদি মনোনীত করা হতো তাহলে আরও ভালো হতো। তারা সে জন্য চেষ্টা করছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রত্যাহারের সময় শেষ হয় নাই। আমরা আহ্বান জানিয়েছি তাদেরকে যে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। আমরা আশা করছি, যে তারা প্রত্যাহার করবেন। অনেকেই অলরেডি প্রত্যাহার করার কথা জানিয়েছেন আমাদেরকে। তো সেজন্য আমি মনে করি আর কি যে প্রত্যাহার করার সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়ে যাবে। নইলের দল তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।’
‘মায়ের পথেই কাজ শুরু করেছেন তারেক রহমান’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তান তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি বাংলাদেশের এখন অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের রাজনীতির মস্ত বড় একজন অংশীদার। আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশের মানুষ তার মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চায় এবং সেজন্যই তাকে নিয়ে মানুষের এত আকাঙ্ক্ষা, মানুষের এত আবেগ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি তার পিতা মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী জনগণের নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাবেন। তারেক রহমান সাহেব অলরেডি বলেছেন যে, ‘‘আমার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, আমি সেখান থেকে শুরু করব।’’’ আমরা মনে করি যে দেশ এবং দেশমাতৃকার জন্য দেশনেত্রী যা করেছেন সেখান থেকে শুরু করে এটাকে আরোওএগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেই শুধু দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। আমরা আশা করি যে এই কাজে আমরা আমাদের গণমাধ্যমসহ সবারই সহযোগিতা পাব।’
নির্বাচনে আইনশঙ্খলার অবস্থা
নির্বাচনের আগে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিএনপির অঙ্গসংগঠনের এক নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে দষ্টি আকর্ষন করা হলে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কথা হচ্ছে যে, গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সব ভালো কাজের শত্রু থাকে, সব ভালো উদ্যোগের বিরোধিতা থাকে। কাজেই এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমাদের শহিদ হাদির(ওসমান হাদি) ঘটনাটাও এরই অংশ। যারাই দেশের জন্য, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের জন্য এবং দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করতে চায় তাদেরও শত্রু থাকে। এবং সে শত্রুরা চেষ্টা করে যাতে এই ভালো কাজের মঙ্গলময় কাজের গতি থামানো না গেলেও যেন ধীরও করা যায়। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে এদেশের মানুষ তারা আন্দোলন সংগ্রাম পুড়ে খাঁটি সোনা হয়ে গেছে। কাজেই তাদেরকে এসব কোনো অপকর্মের দ্বারা ঠেকায়া রাখা সম্ভব হবে না।’
‘সরকারকে কৌশলী হতে হবে’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘দেখেন একটা নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীল হওয়া উন্নত হওয়াটা তো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কোনো সন্দেহ নাই। আমরা অনেক আগে থেকেই বলে আসছি এটা এবং সরকারকে আমরা বলেছি যে তারা যেন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়। এ ব্যাপারে আমাদের জন্য যে সহযোগিতা করা প্রয়োজন আমরা সেটা করতে রাজি হয়েছি এবং আমরা সেটা করছি। আমরা এমন কিছু করছি না যাতে নির্বাচনের আগে কোনো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু দৈনন্দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার দায়িত্ব তো সরকারের। এ ব্যাপারে আমরা সরকারকে আহ্বান জানিয়েছি এবং আবার আহ্বান জানাব যে তারা যেন অত্যন্ত সক্রিয় হয় এবং কৌশলী হয়। মনে রাখতে হবে আর কি যে যারা নির্বাচনটা এই সময় হোক চায় না। কিংবা যারা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র উত্তরণ ঘটুক এটা চায় না, কিংবা যারা বাংলাদেশেরই একটা স্মৃতিশীলতার বিপক্ষে তারা তো সবাই চেষ্টা করবেই তারা আর কি যে, নানান রকমের ঘটনা ঘটিয়ে একটা অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করা। কিন্তু আমরা ধারণা করি, আর কি যে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়নে একটি কমিটি কাজ করছে। আমার ধারণা খুব শিগগিরই হবে।’
ছাত্রসংসদ নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি বলেন, ‘একটা বিষয় আপনাদের বুঝতে হবে, বহু বছর আমাদের যে ছাত্র সংগঠন তারা বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজগুলোতে ঢুকতে পারে নাই, তারা কাজ করতে পারে নাই। কিন্তু যে সংগঠনটা মোটামুটি ভালো এখন ফলাফল করছে তাদের সম্পর্কে আপনারা জানেন যে, তারা তাদের পরিচয় গোপন করে সরকারি দলের সঙ্গে থেকে তারা কাজ করেছে। এটার সুফলটা তারা এখন ভোগ করার চেষ্টা করছে।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘কিন্তু এই কৌশলটাকে আমরা কখনোই ভালো কৌশল হিসেবে মনে করি নাই, ওই কৌশল আমরা গ্রহণ করি নাই। কাজেই ওই কৌশলের ফল আমরা আশা করিও না। তবে আমরা এটা নিশ্চয়ই আশা করি যে, আমাদের রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে কার্যক্রম, আমাদের যে তৎপরতা, আমাদের যে ভবিষ্যৎ কর্মপ্রণালী তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করবে।’
তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন তো শেষ নির্বাচন না। তাই না? এটা একটা ট্রাজিশনাল সময়ের নির্বাচন। যখন একটা স্থিতি স্থিতিশীল অবস্থায় আসবে আমরা মনে করি যে, এখন আমাদের দেশের ছাত্রছাত্রীরা তারা তাদের যে ভাবনা, তাদের যে আধুনিক চিন্তা এগুলো বিবেচনা করে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’
নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবনকর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কর্মরত বগুড়াবাসীদের নিয়ে গঠিত ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি (বিএমসিএস)’ উদ্যোগে শেরে বাংলা প্রদর্শনী স্থল ঘুরে ঘুরে দেখেন। এই সময়ে বিএমসিএসের সভাপতি মারুফা রহমান, সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’র সদস্যদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেন নজরুল ইসলাম খান।
© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।