কুষ্টিয়ার ৪টি আসনে মনোনয়ন দ্বন্দ্ব বিনেপিতে সুযোগ নিতে চায় জামায়াত


 


                  
শামসুল আলম স্বপন,কুষ্টিয়া : 
    
ভারত সীমান্ত ঘেষা কুষ্টিয়া জেলার নির্বাচনী চারটি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব কটিতেই প্রাথমিক মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। সকল আসনেই বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে  মনোনয়নবঞ্চিতদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে ।  এর মধ্যে কুষ্টিয়ার-২ ও ৩ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়নকে ঘিরে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। এ দুটি আসনে বিক্ষোভ-সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীর প্রতি নিজেদের অনাস্থার জানান দিচ্ছে নেতা-কর্মীদের একাংশ। মনোনয়নবঞ্চিতদের নেতাদের পক্ষে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁদের অনুসারীরা। কুষ্টিয়া-২ আসনে সাবেক এমপি অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ও কুষ্টিয়া-৩ আসনে সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের পক্ষে তাঁদের অনুসারীদের আন্দোলন দিনকে দিন হচ্ছে তীব্রতর। বিএনপির মনোনয়ন   বিরোধের সুযোগটা নিতে চাচ্ছে  জামায়াতে ইসলামী দলটি । জামায়াতে ইসলামীর ধারণা বিএনপি’র মধ্যে  মনোনয়ন  নিয়ে  বিরোধ থাকলে তারা কমপক্ষে ২টি আসনে জয়ী হতে পারবে। 


কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) : 


এ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দৌলতপুর থানার আমির বেলাল উদ্দিন।  বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে দলের উপজেলা সভাপতি সাবেক এমপি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। এ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েলও এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষণার পর তিনি দলের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানালেও এখনো সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ফলে চাপের মুখে পড়েছেন বাচ্চু মোল্লা। এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি, খেলাফত মজলিসের মনোনয়ন পেতে পারেন শরীফুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন মুফতি আমিনুল ইসলাম। । বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আসাদুজ্জামান, এবং গণঅধিকার পরিষদ থেকে শাহাবুল মাহমুদ প্রার্থী হতে পারেন এমনটি ধারণা করা হচ্ছে । 


কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) :


জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর। তিনি তাঁর কর্মী সমর্থকদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে । এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। তবে তাঁকে মেনে নিতে রাজি নন দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের সমর্থকেরা। এতে স্থানীয় বিএনপিতে বিরাট বিভাজন দেখা দিয়েছে। রাগীব রউফ চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের অনুসারীরা। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্র অধ্যাপক শহীদুল ইসলামের  দীর্ঘদিনের কাজের মূল্যায়ন করেনি। দলের দুর্দিনে অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম ২টি উপজেলার ( মিরপুর-ভেড়ামারা ) বিপদগ্রস্থ নেতা-কর্মীদের আগলে রেখেছিলেন । মামলা হামলা থেকে রক্ষা করেছিলেন নেতা-কর্মীদের। অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেলে আসটি হারাবে বিএনপি ।  বিএনপির মিত্র হিসেবে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব ও সাবেক এমপি আহসান হাবীব লিংকনও এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিএনপি ও তার মিত্রদের দ্ব›দ্বকে কাজে লাগিয়ে তিনি ফায়দা তুলতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন থেকে মোহাম্মদ আলী, খেলাফত মজলিস থেকে মো. আব্দুল হামিদ ও এনসিপি থেকে নয়ন আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে জোরে শোরে ।


কুষ্টিয়া-৩ (সদর) : 


আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কুষ্টিয়ে বিএনপি’র সদস্য সচিব  প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। মনোনয়নে ঘোষণার পর তিনি ভোটের মাঠে সক্রিয় । নিতা-কর্মীর্দে ঔক্যবদ্ধ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। তবে তাঁর মনোনয়নে ক্ষুব্ধ মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের অনুসারীরা। অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন মনোনয়ন ঘোষণার প্রথম দিকে চুপ চাপ থাকলেও বর্তমানে তাঁর অনুসারীদের চাপে তিনি ভোটের মঠে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন মনোনয়ন ফেরাতে । ক্লিন ইমেজের নেতা হিসেবে ভোটারদের কাছে রয়েছে তাঁর  ব্যাপক জনপ্রিয়তা। প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার ও অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যকার দ্ব›দ্ব নিরসন করতে না পারলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা । জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজা। খেলাফত মজলিস থেকে সিরাজুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে আবদুল লতিফ খান, গণঅধিকার পরিষদ থেকে আব্দুল খালেক এবং ইসলামী আন্দোলন থেকে আহম্মদ আলী প্রার্থী হতে পারেন।


কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা):


এ  আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। তাঁর পিতা এ্যাডভোটে সৈয়দ মাছউদ রুমী ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এমপি এবং জেলা উননয়ন সম্বয়কারী (ডিডিসি) । তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে । এ আসনে পিতার মতই  সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জনপ্রিয় । তবে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিকের অনুসারীরা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী, কৃষক দলের হাফেজ মো. মঈনউদ্দিনও এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী । ফলে তাঁদের অনুসারীরাও আসনটিতে প্রার্থী পরিবর্তন চান। জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন। বিএনপির কোন্দলে এখানে জয়ের আশা দেখছেন জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। গণঅধিকার পরিষদ থেকে শাকিল আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন থেকে আনোয়ার হোসেন খান  এবং খেলাফত মজলিস থেকে আলী আশরাফ, মনোনয়ন পেতে পারেন বলে স্ব স্ব দলের পক্ষ থেকে ধারণা। 

 

সুত্র: দৈনিক আমাদের সময় : ২১/১২/২০২৫ : 
 


Email: bijoynews24bd@gmail.com

প্রকাশকঃ রোকমুনুর জামান রনি

সম্পাদকঃ শামসুল আলম স্বপন

ফোনঃ 01716954919 / 01722158130

যোগাযোগঃ A-231 Housing Estate, Kushtia-7000.

© Jonotar Potrika ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সতর্কতাঃ অনুমতি ব্যতীত কোন সংবাদ বা ছবি প্রকাশ বা ব্যবহার করা যাবে না।